করতোয়া নদীর ওপর ফতেহ আলী ব্রিজ কাজ শুরুর তিন বছরেও পূর্ণাঙ্গ ব্রিজ পেলো না পূর্ববগুড়ার মানুষ
স্টাফ রিপোর্টার : ২০২৩ সালের ২২ মে। অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়ে অবশেষে শুরু হয় বগুড়ার করতোয়া নদীর ওপর কাঙ্খিত ফতেহ আলী ব্রিজের নির্মাণ কাজ। তবে পূর্ববগুড়াবাসীর দুর্ভোগ যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না। নির্মাণ শুরুর তিন বছর হতে চললেও আজ শেষ হয়নি কাজ।
জানা গেছে, ২০২৩ সালের ২২ মে ব্রিজটির নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ার পর দফায় দফায় সময় বাড়িয়েও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার সময়মত ব্রিজটির নির্মাণ কাজ শেষ করতে পারেননি। গত বছরের এপ্রিলের মাঝামাঝি চলাচলের জন্য অনানুষ্ঠানিকভাবে খুলে দেওয়া হয় ব্রিজটি। ওই সময় সড়ক ও জনপদ বিভাগ বগুড়া কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী জানিয়েছিলেন, সম্পূর্ণ নির্মাণ কাজ শেষ হতে বা আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রিজটি চালু হতে অপেক্ষা করতে হতে পারে জুন পর্যন্ত।
সেই জুন পেরিয়ে আসছে আরেক জুন কাজ আর শেষ হয় না। এদিকে ব্রিজটির দু’পাশে রেলিং না থাকায় পূর্ব বগুড়ার কয়েকটি উপজেলার ১০ লক্ষাধিক মানুষসহ যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে চলাচলা করছে। যেকোন সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা।
এদিকে নির্মাণ কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় পোয়াবারো দখলদারদের। ব্রিজটির অ্যাপ্রোচ সড়কের দু’পাশ চলে গেছে অবৈধ দখলদারের হাতে। আর বিরাট একটি অংশ দখলে নিয়েছে সিএনজিচালিত ও চার্জার অটোরিকশার চালক এবং সিন্ডিকেট চক্র। শুধু তাই নয় ব্রিজটির দু’পাশে ওয়াকওয়ে পড়ে থাকায় সেটিও দখলে চলে গেছে ভ্রাম্যমাণ দোকানীদের দখলে।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে সড়ক ও জনপদ বিভাগ বগুড়া কার্যালয়ের তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী মনসুর আহমেদ দৈনিক করতোয়াকে জানিয়েছিলেন, ব্রিজটির নির্মাণ কাজের সময় শেষ হলেও তা ঠিকাদার শেষ করতে পারেননি।
এ জন্য সময় বাড়ানোর আবেদন করা হলে তা বাড়ানো হয়। ব্রিজটির ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে দাবি করে এই কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, এখনও ফুটপাত, রেলিংসহ সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ বাকি আছে, সবমিলে আরও তিন মাস সময় লেগে যেতে পারে।
তারপরেও নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়ায় ক্ষুব্ধ পূর্ববগুড়ার মানুষ। অথচ কয়েক মাস আগেই ব্রিজটির সৌন্দর্যবর্ধন কাজের নির্মাণ সামগ্রী ব্রিজটির পূর্বপাশে নিয়ে এসে ফেলে রাখা হয়েছে। খবর নিয়ে জানা যায়, মূল ঠিকাদারের সাথে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজের উপঠিকাদারের দর নিয়ে ঝামেলার কারণে এখনও কাজ শুরু করা হচ্ছে না। এমনকি কবে নাগাদ কাজ শুরু হবে এবং তা কবে সম্পন্ন হবে? সে ব্যাপারেও কেউ কিছু বলতে পারছেন না।
এ ব্যাপারে সড়ক ও জনপদ বিভাগ বগুড়া কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাশেদুল হক দৈনিক করতোয়াকে বলেন, তিনি সদ্য এই জেলায় যোগদান করেছেন। ব্রিজটির নির্মাণ কাজ শেষ করতে তিনি দ্রুতই পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে জানান।
উল্লেখ্য, ১৯৭০ সালে নির্মিত ফতেহ আলী ব্রিজকে ২০১৮ সালের আগস্টে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়। এর প্রায় তিন মাস পর ব্রিজটির ওপর দিয়ে ভারি যান চলাচল বন্ধে উভয়পাশে তিনটি করে ছ’টি পিলার বসানো হয়। ২০২২ সালের ৩১ জুলাই বাংলাদেশ সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয় সেতুটির নকশা ও অর্থ বরাদ্দ অনুমোদন করে।
ব্রিজটি নির্মাণের জন্য ২২ কোটি টাকার অনুমোদন পাওয়া যায় এবং ওই বছরের নভেম্বরেই ব্রিজটির নির্মাণ কাজ শুরু কথা ছিল। ব্রিজটির দৈর্ঘ্য ৬৮ মিটার আর চওড়া ১২ দশমিক ৩ মিটার। এরমধ্যে সেতুর দু’পাশে আড়াই মিটার করে হাঁটাপথ (ফুটপাত) থাকবে। ব্রিজটি দৃষ্টিনন্দন করার পাশাপাশি আধুনিকভাবেও নির্মাণ করা হবে।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/163355