চাঁপাইনবাবগঞ্জে ফসল নষ্ট করছে ভারতীয় বন্য শূকরের পাল
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি: চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় কাঁটাতারের বেড়াবিহীন পদ্মা নদীর তীরবর্তী সীমান্তে বাংলাদেশি জমির ফসল ভারত থেকে আসা বন্য শূকরের পাল নষ্ট করছে বলে খবর পাওয়া গেছে। অনেক সময় শুকরের পাল সীমান্তের কৃষকদের আক্রমণ করে আহত করছে বলেও অভিযোগ করেছে সীমান্ত সূত্রগুলো।
শূকরের পাল সন্ধ্যার পর অন্ধকার ঘনিয়ে আসলে বাংলাদেশে ঢুকে আবার ভোর হবার আগেই ফিরে যায় ভারতের জঙ্গলে। এ অবস্থায় কৃষকরা রাত জেগে জমি পাহারা দিচ্ছেন। শূকর তাড়াতে সাহায্য নিচ্ছেন আলো ও বাদ্যযন্ত্রের উচ্চমাত্রার শব্দের। এছাড়াও বিভিন্ন উপায় বেছে নেয়া হচ্ছে শূকর তাড়াতে। সীমান্তের জনপ্রতিনিধি, কৃষি বিভাগ ও বিজিবি ভারতীয় শূকর সমস্যার কথা নিশ্চিত করেছে।
মনাকষা ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড সদস্য সমির আলী বলেন, বহু আগে থেকেই শূকরের সমস্যা ছিল। তবে গত ৩-৪ বছর যাবৎ সীমান্তের তারাপুর, মন্ডলপাড়া, শিংনগর, পন্ডিতপাড়া সহ ৮ ও ৯নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকার সীমান্তের জমিতে এ সমস্যা আবার দেখা যাচ্ছে। শূকরের আক্রমণে আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন কৃষক। দু’মাস আগে তার পাশের গ্রামের একজন আহত হন।
আহদের ককেজনকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালেও চিকিৎসা নিতে হয়েছে সম্প্রতি। জমিতে এখন রয়েছে ভুট্টা, কলা, ধান ইত্যাদি ফসল। অনেক কৃষক তো ভয়ে ভুট্টা আবাদই ছেড়ে দিয়েছেন। সরিষার সময় সরিষা নষ্ট করেছে শূকরের পাল। ফসল যত না খায় তার চেয়ে বেশি নষ্ট করে। ধানক্ষেতে গড়াগড়ি করে ধানের ক্ষতি করে। বাংলাদেশি কৃষকদের হাতে মারাও পড়েছে বিশালদেহী কিছু শুকর।
সাঁওতাল শিকারীরাও কিছু শূকর মেরেছে। তবে অত্যাচার চলছে। শিংনগর, মাসুদপুর বিওপি এলাকায় এ সমস্যা বেশি। বিনোদপুর ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ রুহুল আমীন বলেন, ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের বিশ্বনাথপুর, বাখর আলী, নজিবটোলা, মালোপাড়া, ক্যাপড়াটোলা এলাকায় শূকরের অত্যাচারে অতিষ্ট কৃষক।
গত দেড় বছরে অত্যাচার বেড়েছে। কাঁটাতারবিহীন পুরো সীমান্তজুড়েই রয়েছে ফসলি জমি। ফলে সীমান্তের সকল কৃষকই আক্রান্ত। এ সমস্যা নিয়ে বিজিবি, কৃষি বিভাগসহ সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলেও কোন সমাধান পাওয়া যায়নি।
শিবগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নয়ন মিয়া বলেন, কৃষি বিভাগ সমস্যা সম্পর্কে অবহিত। মাঠ কর্মকর্তারা ফসল পরিদর্শনে এ সমস্যার প্রমাণ পেয়েছেন। কৃষকদের জমি বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা ও প্রয়োজনে পাহারা দেবার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সুযোগ হলে প্রণোদনার আওতায় আনা হবে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবহিত করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৩ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, বিজিবি বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত। অনেক সময় টহল দলের সামনে পড়ে শূকরের পাল। তখন তাদের তাড়িয়ে দেয়া হয়।
শুধু কাঁটাতারের বেড়া নেই এমন সীমান্তে এ সমস্যা। আবার যেসব কৃষক জমি বেড়া দিয়ে চাষ করেন তাদের এ সমস্যা নেই। বিষয়টি বিএসএফকেও অবহিত করা হয়েছে। কিন্তু বন্যপ্রাণীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া সকলের জন্যই কঠিন।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/163328