মহেশপুরে স্কুলছাত্রীকে গণধর্ষণের অভিযোগে মামলা, গ্রেফতার ১

মহেশপুরে স্কুলছাত্রীকে গণধর্ষণের অভিযোগে মামলা, গ্রেফতার ১

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় এক স্কুলছাত্রীকে বাড়ি ফেরার পথে তুলে নিয়ে গণধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে এবং তা প্রদর্শন করে অভিযুক্তরা এলাকায় ‘উল্লাস’ করেছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

এ ঘটনায় গতকাল মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর ফুফু বাদী হয়ে মহেশপুর থানায় চারজনের নামোল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ অভিযান চালিয়ে রাতে হযরত আলী নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে। 

এজাহার ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসের সন্ধ্যায় ওই স্কুলছাত্রী পাশের বাড়ি থেকে নিজের বাসায় ফিরছিল। পথিমধ্যে সামন্তা বাগদিরাইট গ্রামের রাস্তার ওপর থেকে শাওন ও হযরত আলী তার মুখ চেপে ধরে পাশের একটি ঘাস ক্ষেতে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে সেখানে আরও দুজন যোগ দেয়।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, একই গ্রামের হাফেজুল ইসলামের ছেলে হযরত আলী, তরিকুল ইসলামের ছেলে শাওন এবং দিনুর ছেলে নয়ন পালাক্রমে তাকে ধর্ষণ করে। এ সময় ফরিদ হোসেনের ছেলে আমিন ছাত্রীর মুখ চেপে ধরে রাখে যাতে সে চিৎকার করতে না পারে।

এ ঘটনার শাওন ও আমিন মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে। ধর্ষণের পর তারা ভিকটিমকে হত্যার হুমকি দেয় এবং ঘটনাটি জানাজানি হলে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখায়।

ভুক্তভোগী ওই স্কুলছাত্রী কান্নজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘ওরা আমাকে তুলে নিয়ে গিয়ে সর্বনাশ করেছে। আমার পরিবারকে মেরে ফেলার ভয় দেখিয়েছিল, তাই ভয়ে কিছু বলিনি। কিন্তু ওরা নিজেরা সেই ভিডিও মানুষকে দেখিয়ে আনন্দ করছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।

মামলার বাদি ভুক্তভোগীর ফুফু বলেন, ‘সামাজিক মর্যাদা ও জীবনের ভয়ে আমরা প্রথমে চুপ থাকলেও অভিযুক্তরা ভিডিও নিয়ে লোকজনের কাছে দেখায়। তখন বিষয়টি আমাদের নজরে আসে।

মহেশপুর থানার ওসি মেহেদী হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ‘হযরত আলী নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে আজ বুধবার(১ এপ্রিল) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। বাকী আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আশা করছি খুব দ্রুতই তাদের গ্রেফতার করতে পারবো।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/163280