দিনাজপুরের বীরগঞ্জে সাথী ফসল লটকন এখন লাভজনক ফসল

দিনাজপুরের বীরগঞ্জে সাথী ফসল লটকন এখন লাভজনক ফসল

বীরগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার সুজালপুর ইউনিয়নের শীতলাই গ্রামের মানুষ কখনোই ভাবতে পারেননি এ এলাকায় লটকন চাষ করে কেউ সফল হতে পারবে। প্রায় অপ্রচলিত ফল হিসেবে পরিচিত লটকন এখন ধীরে ধীরে এই এলাকায় সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফসলে রূপ নিচ্ছে। স্বল্প খরচ, কম পরিচর্যা এবং বাজারে উচ্চ চাহিদার কারণে এ ফল চাষে আগ্রহী হচ্ছেন অনেক কৃষক।

এ গ্রামের সফল কৃষি উদ্যোক্তা রাশেদুন নবী বাবু নিজ উদ্যোগে বিভিন্ন কৃষি বিষয়ক জার্নাল দেখে লটকন চাষে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। শুরুতে পরীক্ষামূলকভাবে ২৫ শতক জমিতে ৩৫টি লটকনের চারা রোপণ করেন তিনি। প্রথম কয়েক বছর ফলন আশানুরূপ না হলেও হতাশ হননি তিনি, লেগে থাকার ফল এবার তার বাগানের প্রতিটি গাছে গাছে ঝুলে আছে থোকা থোকা লটকন, যা তাকে সাফল্যর জানান দিচ্ছে।

রাশেদুন নবী বাবু আবেগঘন কন্ঠে বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার ফলন অনেক ভালো হয়েছে। আশা করছি লাভও বেশি হবে। প্রতিটি গাছ থেকে গড়ে ৩০-৪০ কেজি লটকন পাওয়া যেতে পারে। তিনি আরও বলেন, মানুষের শরীর স্বাস্থ্য এবং সুস্থতার কথা বিবেচনা করে লটকন চাষে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার করিনি বললেই চলে। মূলত জৈব সার ব্যবহারের মাধ্যমেই ভালো ফলন পেয়েছি। এতে উৎপাদন খরচ কম হয়েছে এবং নিরাপদ ফল পেয়েছি। স্থানীয় জাতের লটকন চাষ করেই সন্তোষজনক ফলন পেয়েছি।

বর্তমানে বাজারে লটকনের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। প্রতি কেজি লটকন ১৫০-১৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যা কৃষকদের জন্য লাভজনক একটি দিক। একই জমিতে লটকনের পাশাপাশি সুপারি ও মালটার মতো অন্যান্য ফসলও চাষ করছেন তিনি। তার ভাষায়, লটকন মূলত সাথী ফসল হিসেবে চাষ করছি। শখের বসেই শুরু করেছিলাম, এখন তা লাভজনক হয়ে উঠছে।

বীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, বীরগঞ্জ কৃষিতে অগ্রসর একটি উপজেলা। এখানে বিভিন্ন জাতের ফল চাষের উপযোগী পরিবেশ রয়েছে। লটকন চাষ বাণিজ্যিকভাবে আরও সম্প্রসারণের সুযোগ আছে। এটি পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি ফল, বিশেষ করে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ হওয়ায় স্বাস্থ্যগত দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ।

স্থানীয়ভাবে এ ফলের চাষ বাড়লে কৃষকদের আয় বৃদ্ধি পাবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। শখ থেকে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ এখন অনেকের কাছেই হয়ে উঠছে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/163165