মেহেরপুরের গাংনীতে এসবি পরিবহনের চালককে কুপিয়ে গুরুতর জখম

মেহেরপুরের গাংনীতে এসবি পরিবহনের চালককে কুপিয়ে গুরুতর জখম

মেহেরপুরের গাংনীতে পারিবারিক কলহের জেরে এসবি সুপার ডিলাক্স পরিবহনের চালক হাসেম আলীকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার ঘটনা ঘটেছে।

আজ মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে গাংনী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সাবেক পৌর মেয়র আশরাফুল ইসলামের বাড়ির পাশের একটি গলিতে এ ঘটনা ঘটে।

আহত হাশেম আলী উপজেলার চৌগাছা ভিটাপাড়া গ্রামের আলী হোসেনের ছেলে এবং তিনি নাহিদা খাতুনের মামাতো ভাই। সালিসে তালাকের বিষয়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। এছাড়া তিনি এসবি পরিবহনের ড্রাইভার হিসেবে কর্মরত।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গাংনী বাসস্ট্যান্ডের সদর উদ্দিন মার্কেট এলাকার সম্রাটের (৩৮) সঙ্গে চৌগাছা ভিটাপাড়া এলাকার নাহিদা খাতুনের (২৫) প্রায় এক বছর আগে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তাদের দাম্পত্য জীবনে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কলহ লেগে থাকত। সম্রাট নেশা করেন এমন অভিযোগও রয়েছে। প্রায় দুই মাস আগে পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে নাহিদা খাতুন তার বাবার বাড়িতে চলে যান। পরে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে তিনি আর সম্রাটের সঙ্গে সংসার করবেন না। এরপর সম্রাট মাঝে মধ্যেই সেখানে গিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়তেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

সম্রাটের মেজ চাচা মজনুর রহমান জানান, সোমবার (৩০ মার্চ) দিবাগত রাত সাড়ে বারোটার দিকে সম্রাট নাহিদাদের বাড়িতে গেলে তাকে আটকে রাখা হয় এবং একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ছাড়াছাড়ির ঘটনা ঘটে

এ ঘটনার জেরে হাশেম আলীর ওপর সম্রাটের ক্ষোভ সৃষ্টি হয় বলে জানা গেছে।

আজ মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে হাশেম আলী এসবি পরিবহনের গাড়ির ডিউটিতে যাওয়ার উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হলে পথে সাবেক পৌর মেয়র আশরাফুল ইসলামের বাড়ির পাশের গলিতে আগে থেকে ওত পেতে থাকা সম্রাট তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায় বলে স্থানীয়দের ধারণা। এ সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাকে রক্তাক্ত জখম করে সম্রাট পালিয়ে যায়।

হাশেম আলীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে। প্রাণ বাঁচাতে তিনি দৌড়ে গিয়ে এসবি পরিবহনের কাউন্টারের সামনে পড়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে স্থানীয় রফিকুল ইসলাম তাকে উদ্ধার করে এসবি পরিবহনের হেলপার তহিদুল ইসলামের সহযোগিতায় গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ওমর ফারুক হোসেন জানান, আহত ব্যক্তির মাথা, হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের প্রায় সাতটি আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।

গাংনী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) উত্তম কুমার দাস জানান, পূর্ব শত্রুতার জেরে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে জখম করার সংবাদ পেয়ে আমিসহ পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/163144