জ্বালানি তেলের দাম না বাড়ানো বিএনপি সরকারের এক অনন্য সফলতা :

জ্বালানি তেলের দাম না বাড়ানো বিএনপি সরকারের এক অনন্য সফলতা :

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ইতোমধ্যে আগামী তিন মাসের জন্য বিশেষ তেল মজুদ গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে। একইসঙ্গে জ্বালানির দাম না বাড়ানো এবং চোরাচালান বন্ধে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তগুলোই প্রমাণ করে, সংকট মোকাবিলায় সরকার শুধু প্রতিক্রিয়াশীল নয়, বরং আগাম প্রস্তুতি ও দৃঢ় নেতৃত্বের পরিচয় দিচ্ছে। বর্তমান বিশ্ব এক অস্থির সময় অতিক্রম করছে। ইউরোপ থেকে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোর দ্বন্দ্ব বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারকে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলেছে। সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যাহত হওয়া এবং উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী। এই বাস্তবতায় দেশের ভেতরে জ্বালানি তেলের দাম স্থিতিশীল রাখা নিছক একটি অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং এটি দায়িত্বশীল নেতৃত্ব, দূরদর্শী নীতি এবং জনগণের প্রতি অঙ্গীকারের সুস্পষ্ট প্রতিফলন। কারণ, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি মানেই সাধারণ মানুষের জীবনে সরাসরি প্রভাব। পরিবহন ব্যয় বাড়ে, নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি পায় এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। কিন্তু সংকটের এই সময়ে সেই চাপ জনগণের কাঁধে পুরোপুরি চাপিয়ে দেওয়া হয়নি, এটাই সবচেয়ে বড় অর্জন। বিশ্বের দিকে তাকালে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়। বিশ্ববাজারে অস্থিরতা ও ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিকভাবে তেলের দাম বাড়ছে। এতে তুরস্কের মতো তেল আমদানিনির্ভর দেশগুলোর খরচও বাড়ছে। দক্ষিণ এশিয়ায় পাকিস্তানে পেট্রোলের দাম ৩০০ রুপির ওপরে, ভারতে ১০০ রুপির বেশি, শ্রীলঙ্কায় সংকটকালে তা ১৪০-১৫০ টাকায় পৌঁছেছিল।

ইউরোপসহ অনেক দেশ, যেমন : সিঙ্গাপুর, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, জার্মানি ও যুক্তরাজ্য-এ পেট্রোলের দাম বাংলাদেশের থেকে অনেক বেশি। তেলের দাম ২০০-২৫০ টাকার মধ্যে। অথচ বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম এখনো তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রিত। এই পার্থক্য শুধু পরিসংখ্যানের নয়, এটি নীতিগত দৃঢ়তার প্রতিফলন। সংকটের সময়ে আরেকটি বড় ঝুঁকি হলো কৃত্রিম সংকট ও মজুদদারি। অনেক দেশেই অসাধু চক্র এই সুযোগে বাজার অস্থিতিশীল করেছে। তবে দেশে প্রশাসনের সক্রিয় নজরদারি এবং সরকারের কঠোর অবস্থানের ফলে সেই সুযোগ তৈরি হয়নি। ফলে বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য বড় স্বস্তি। এই নীতির সরাসরি সুফল পেয়েছে জনগণ। পরিবহন ভাড়া নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, নিত্যপণ্যের বাজার তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল। কৃষি খাতে ডিজেলনির্ভর সেচ ও যন্ত্রচালনায় খরচ না বাড়ায় কৃষক উৎপাদন ধরে রাখতে পারছেন। শিল্পখাতেও উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে থাকায় কর্মসংস্থানে বড় ধরনের চাপ পড়েনি। তবে এই স্থিতিশীলতার পেছনে রয়েছে সরকারের নীরব দায়িত্ববোধ ও ভর্তুকি। আন্তর্জাতিক বাজারে বেশি দামে তেল কিনে দেশের বাজারে কম দামে সরবরাহ করা সহজ নয়। এটি অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করলেও জনগণের স্বস্তি নিশ্চিত করতে সরকার এই দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। সংকটকালে জনগণের প্রত্যাশা থাকে যে, সরকার পাশে থাকবে, কষ্ট কমাবে। জ্বালানি তেলের দাম স্থিতিশীল রাখা সেই প্রত্যাশারই বাস্তব প্রতিফলন। তবে এই সাফল্য ধরে রাখতে হলে দীর্ঘমেয়াদি কৌশল প্রয়োজন। নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার, অপচয় রোধ এবং দেশীয় সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা ছাড়া এই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। সবকিছু বিবেচনায় বলা যায়, যুদ্ধ ও বৈশ্বিক অস্থিরতার এই সময়ে জ্বালানি তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা একটি সাহসী, দূরদর্শী ও জনকল্যাণমুখী সিদ্ধান্ত। যেখানে বিশ্ববাজারে অস্থিরতা ও ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিকভাবে তেলের দাম বাড়ছে, সেখানে জনগণকে স্বস্তিতে রাখার এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়। এটি কেবল একটি বিএনপি সরকারের নীতিগত সাফল্য নয়, বরং সংকট ব্যবস্থাপনায় দায়িত্বশীল নেতৃত্বের এক উজ্জ্বল উদাহরণ।

লেখক :

সুলতান আহমেদ রাহী

সভাপতি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/163110