সারাদেশে অভিযানে ২ লাখ ৮ হাজার লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার

সারাদেশে অভিযানে ২ লাখ ৮ হাজার লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার

সম্প্রতি সারাদেশে অভিযান পরিচালনা করে ২ লাখ ৮ হাজার লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
 
তিনি বলেছেন, মজুত প্রবণতা থাকায় সংকট কৃত্তিমভাবে তৈরি হয়েছে। সরকার সচেতনতা তৈরি করছে। দেশব্যাপী ৩ হাজার ১৬৮টি অভিযান পরিচালনা করে ১৫৩টি মামলাসহ ৭৫ লাখ টাকার অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তেল মজুত করায় ১৬ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে ১ লাখ ৪০ হাজার লিটার ডিজেল, ২২ হাজার লিটার অকটেন ও ২৩ হাজার লিটার পেট্রোলসহ মোট ২ লাখ ৮ হাজার লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে।
 
সোমবার (৩০ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের মুলতবি অধিবেশনে একজন সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন।
 
জ্বালানি মন্ত্রী বলেন, জ্বালানি তেলের ক্ষেত্রে মার্চ-জুন প্রান্তিকে মোট ভর্তুকির প্রয়োজন হবে—ডিজেলের ক্ষেত্রে ১৫ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা ও অকটেনের ক্ষেত্রে ৬৩৬ কোটি টাকা। মোট ভর্তুকি হবে ১৬ হাজার ৪৫ কোটি টাকা। এছাড়া পেট্রোবাংলার মাধ্যমে এলএনজি আমদানি এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে ১৫ হাজার ৭৭ কোটি টাকা ভর্তুকির প্রয়োজন হবে।
 
তিনি বলেন, সরকার বিশ্বাস করে রাষ্ট্রের প্রথম দায়িত্ব হলো সংকটের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। কৃষি উৎপাদন, পরিবহন খরচ, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বহুগুণ বেড়ে গেছে।

তিনি আরও বলেন, একটা বাস্তবতা জাতির সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন। দেশে ডিজেলের বর্তমান বিক্রয় মূল্য প্রতি লিটার ১০০ টাকা, অথচ প্রকৃত ব্যয় প্রতি লিটারে ১৯০ টাকা। এভাবে দেশে অকটেনের বর্তমান বিক্রয় মূল্য ১২০ টাকা, অথচ প্রকৃত ব্যয় ১৫০ টাকা ৭২ পয়সা। বিশ্বে জ্বালানি সংকটে বহু দেশ জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কলকারখানা পর্যন্ত সীমিত করেছে। কিন্তু বাংলাদেশে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি জীবনযাত্রা সচল রাখতে।
 
মন্ত্রী বলেন, আমাদের পরিবহন, শিক্ষা কার্যক্রম, শিল্প কারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষি উৎপাদন নিরবচ্ছিন্নভাবে চলছে। আমরা এই গতি বজায় রাখতে চাই। এজন্যই জনগণের সহযোগিতা আজ আমাদের অত্যন্ত জরুরি। জনগণের ভোটে নির্বাচিত বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার মনে করে, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই সেই লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হবে।


সবাইকে সচেতন হওয়ার তাগিদ দিয়ে জ্বালানি মন্ত্রী বলেন, আজকের এই সময়ে আমাদের সবার উচিত প্রয়োজনের অতিরিক্ত জ্বালানি না কেনা। মজুতের প্রবৃত্তিও রোধ করতে হবে। জ্বালানি ও বিদ্যুতের অপচয় রোধ করা, অবৈধ সংযোগ, অবৈধ মজুত বন্ধে সোচ্চার হওয়া, জাতীয় স্বার্থকে ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে স্থান দেওয়া জরুরি।
 
‘আমরা সবাই মিলে যদি সাশ্রয়ী ও সচেতন হই, তবে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করা অনেক সহজ হবে। অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা পরিহার করা, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে সুনির্দিষ্ট সময়ের পর বিদ্যুৎ ব্যবহারে সংযত হওয়ার এখন সময় এসেছে।’
 
তিনি আরও বলেন, আমরা সম্প্রতি লক্ষ্য করছি সীমান্তের দুই জেলায় কিছু সংখ্যক অসাধু ব্যবসায়ী ও কিছু কুচক্রী মহল জ্বালানি তেল পাচারে জড়িত রয়েছে। সরকার জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এটি কঠোর হস্তে দমন করতে বদ্ধপরিকর। এরই মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে অবৈধ মজুতদারির বিষয়ে তথ্য প্রদানকারীদের জন্য পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে।
 
ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, আমরা এমন একটি দেশ গড়তে চাই যেখানে জাতীয় স্বার্থ হবে সবার আগে। সংকটের সময় মানুষ একে অন্যের পরিপূরক হয়ে দাঁড়াবে। কোনো বৈশ্বিক সংকটই আমাদের মনোবল ভেঙে দিতে পারবে না, যদি প্রতিটি নাগরিকের হৃদয়ে এই বিশ্বাস থাকে—সবার আগে বাংলাদেশ।
 
তিনি বলেন, আসুন আমরা সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধ হই। আমি নই আমরা, ব্যক্তি নয় দেশ, অপচয় নয় সাশ্রয়, বিভক্তি নয় ঐক্য—সবার আগে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের মানুষ দেশপ্রেমিক। তারা দেশকে ভালোবাসেন। তারা সংকটে মাথা নত করেন না। আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে যে কোনো বৈশ্বিক অস্থিরতাকে জয় করা সম্ভব। অতীতের সব সংকটে বাংলাদেশ সবাইকে নিয়ে এগিয়ে গেছে। ধৈর্য, সংযম ও দায়িত্বশীলতা এখন সবচেয়ে জরুরি।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/163014