ব্র্যাক ব্যাংকের অর্থায়নে বাংলাদেশের বৃহত্তম তেলবাহী জাহাজের প্রথম সমুদ্রযাত্রা

ব্র্যাক ব্যাংকের অর্থায়নে বাংলাদেশের বৃহত্তম তেলবাহী জাহাজের প্রথম সমুদ্রযাত্রা

ব্র্যাক ব্যাংকের অর্থায়নে নির্মিত সমুদ্রগামী আফ্রাম্যাক্স তেলবাহী জাহাজ প্রথম সমুদ্রযাত্রায় যাচ্ছে। এটিই বাংলাদেশের পতাকাবাহী সর্ববৃহৎ ট্যাংকার।

‘এমটি ওমেরা লিবার্টি’ জাহাজটির মালিক ইস্ট কোস্ট গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এমজেএল বাংলাদেশ। জাহাজটির দৈর্ঘ্য ২৫০ মিটার এবং এটি সর্বোচ্চ ১,১৫,০০০ টন জ্বালানি তেল বহনে সক্ষম। ৩১ মার্চ ২০২৬ জাহাজটি প্রথম সমুদ্রযাত্রা শুরু করবে।

জাহাজটির কমিশনিং/নামকরণ উপলক্ষ্যে ২৫ মার্চ ২০২৬ দক্ষিণ কোরিয়ার দেহান শিপবিল্ডিং-এ একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইস্ট কোস্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরী, দেহান শিপবিল্ডিং-এর চেয়ারম্যান ডেভিড কিম, দক্ষিণ কোরিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তৌফিকুল ইসলাম এবং এমজেএল শিপিং-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন মিনহাজুর রেজা চৌধুরী। ব্র্যাক ব্যাংকের পক্ষে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকটির কর্পোরেট, কমার্শিয়াল অ্যান্ড ইনস্টিটিউশনাল ব্যাংকিংয়ের এরিয়া হেড-১ আবু সাদাত চৌধুরী।

এর আগে এমজেএল বাংলাদেশ পিএলসিকে দুটি সমুদ্রগামী আফ্রাম্যাক্স তেলবাহী জাহাজ— ‘এমটি ওমেরা লিবার্টি’ এবং ‘এমটি ওমেরা গ্যালাক্সি’ অধিগ্রহণের জন্য অর্থায়ন সুবিধা প্রদান করে ব্র্যাক ব্যাংক। ৯৫.৭৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের এই অর্থায়ন সুবিধা এখন পর্যন্ত এই খাতে দেশের কোনো স্থানীয় বেসরকারি ব্যাংকের দেওয়া সর্ববৃহৎ একক বৈদেশিক মুদ্রার (এফসিওয়াই) অফশোর ব্যাংকিং টার্ম লোন।

‘এমটি ওমেরা লিবার্টি’ চালুর ফলে এমজেএল বাংলাদেশের নৌবহর উন্নত হওয়ার পাশাপাশি দেশের সামুদ্রিক লজিস্টিক সক্ষমতাও আরও বৃদ্ধি পাবে, যা জ্বালানির ক্রমবর্ধমান চাহিদার প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সহজতর করতে ভূমিকা রাখবে।

জাহাজটির প্রথম সমুদ্রযাত্রা উপলক্ষ্যে ব্র্যাক ব্যাংকের ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড সিইও তারেক রেফাত উল্লাহ খান নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, “বাংলাদেশের পতাকাবাহী সর্ববৃহৎ তেলবাহী জাহাজের অর্থায়নে এমজেএল বাংলাদেশের অংশীদার হতে পেরে আমরা আনন্দিত ও গর্বিত। এটি আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে যৌথভাবে বৃহৎ পরিসরের বৈদেশিক মুদ্রায় অর্থায়ন সম্পাদনের ক্ষেত্রে ব্র্যাক ব্যাংকের সক্ষমতার প্রতিফলন। এই অর্থায়ন সুবিধা সামুদ্রিক লজিস্টিক সক্ষমতা শক্তিশালী করার পাশাপাশি দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক উন্নয়নে সরাসরি অবদান রাখবে।”

দেশের সমুদ্রগামী জাহাজের বহরে এই বড় আকারের তেলবাহী ট্যাংকার যুক্ত হওয়ার ফলে জ্বালানি পরিবহনে বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে এবং বিদেশি ক্রেতাদের সেবা দেওয়ার মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হবে। একইসঙ্গে এটি বাংলাদেশি মেরিন কর্মকর্তাদের জন্য কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। উল্লেখ্য, এই অর্থায়ন চুক্তি সফলভাবে সম্পন্ন করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহায়তা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/163013