যুক্তরাষ্ট্রে ‘দমন-পীড়নের মঞ্চ’ হওয়ার ঝুঁকিতে বিশ্বকাপ : অ্যামনেস্টি

যুক্তরাষ্ট্রে ‘দমন-পীড়নের মঞ্চ’ হওয়ার ঝুঁকিতে বিশ্বকাপ : অ্যামনেস্টি

স্পোর্টস ডেস্ক : বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় আসর হতে যাচ্ছে এবার। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো জুড়ে লড়বে ৪৮ দল। কিন্তু এবারের বিশ্বকাপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, তাদের মতে এই আসর ‘দমন-পীড়নের মঞ্চ’ হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

লন্ডনভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থার রিপোর্ট-‘হিউম্যান মাস্ট উইন’-ফিফা ও স্বাগতিক দেশগুলোকে ভক্ত, খেলোয়াড় ও অন্য কমিউনিটিকে রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। ফিফা এমন একটি টুর্নামেন্টের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যেখানে সবাই ‘নিরাপদ, অন্তর্ভুক্ত এবং তাদের অধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে স্বাধীন বোধ করবে।’ কিন্তু অ্যামনেস্টি বলছে, এই তিনটি প্রতিশ্রুতি পূরণ করার বিষয়টি তিনটি দেশ বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের বাস্তব পরিস্থিতির একেবারে বিপরীত, যেখানে আসরের ১০৪ ম্যাচের এক চতুর্থাংশ খেলা অনুষ্ঠিত হবে।

ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘মানবাধিকার জরুরি অবস্থার’ সম্মুখীন হিসেবে বর্ণনা করেছে অ্যামনেস্টি, যেখানে গণনির্বাসন, নির্বিচারে গ্রেপ্তার ও তাদের ভাষায় ‘আধাসামরিক ধাঁচের’ অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থার (আইসিই) কার্যক্রম  চলছে। আইসিই-এর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক গত মাসে বলেছিলেন, এই সংস্থাটি ‘বিশ্বকাপের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ’ হতে যাচ্ছে। জানুয়ারিতে মিনিপোলিসের আইসিই-এর আগ্রাসী অভিযানের প্রতিবাদ জানিয়ে দুজন নিহতের ঘটনার পরও এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অ্যামনেস্টি বলেছে, স্বাগতিক দেশের কেউই জানায়নি কীভাবে আইসিই-এর কার্যক্রম থেকে ভক্ত বা স্থানীয়দের নিরাপদে রাখা হবে। এই আসরে অংশ নিতে যাওয়া চারটি দেশ– আইভরি কোস্ট, হাইতি, ইরান ও সেনেগালের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা বহাল আছে। এছাড়া ইংল্যান্ড ও ইউরোপের এলজিবিটিকিউপ্লাস ভক্তরা বলেছেন, ট্রান্সজেন্ডার সমর্থকদের নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে তারাও যুক্তরাষ্ট্রে ম্যাচ দেখতে যাবে না।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, ‘ফিফা যেমনটা বলেছে, এই টুর্নামেন্ট নাকি ‘মধ্যমমাত্রার ঝুঁকিতে’, কিন্তু তার কোনো লক্ষণ নেই। টুর্নামেন্টের আসল প্রতিশ্রুতি ও বর্তমান বাস্তবতার মধ্যে ক্রমবর্ধমান ব্যবধান ঘোচাতে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।’

ফিফা এই মাসের শুরুতে বলেছিল, ৪৮ দলের এই টুর্নামেন্ট নির্ধারিত সূচি মেনেই হবে। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমান সংঘাতের কারণে ইরানের অংশগ্রহণ প্রায় অসম্ভব। এছাড়া গত ডিসেম্বরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে নবঘোষিত ‘শান্তি পুরস্কার’ দেওয়ার কারণেও সমালোচিত হয়েছে ফিফা। এই টুর্নামেন্ট থেকে ১১ বিলিয়ন ডলার আয়েরও আভাস দিয়েছে তারা। অ্যামনেস্টির অর্থনৈতিক ও সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রধান স্টিভ ককবার্ন বলেছেন, ‘বিশ্বকাপ থেকে ফিফা রেকর্ড রাজস্ব পাবে। কিন্তু ভক্ত, কমিউনিটি, খেলোয়াড় ও কর্মীরা তো এর মূল্য চুকাতে পারে না। সরকার, পৃষ্ঠপোষক কিংবা ফিফা নয়-এই মানুষগুলোর কাছেই ফুটবল ঋণী। তাদের অধিকারই টুর্নামেন্টের কেন্দ্রে থাকা উচিত।’ মেক্সিকো সিটি স্টেডিয়ামে ১১ জুন শুরু হবে বিশ্বকাপ। নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ১৯ জুলাই হবে ফাইনাল।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/162913