ইরানে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটিয়েছি : ট্রাম্প
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ওয়াশিংটন সফলভাবে ইরানে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন বা ‘রেজিম চেঞ্জ’ ঘটাতে সক্ষম হয়েছে এবং বর্তমানে তিনি দেশটিতে একটি ‘নতুন গোষ্ঠী’র সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছেন। সোমবার (৩০ মার্চ) দেওয়া এক বক্তব্যে ট্রাম্প জানান, এই নতুন দলটি অত্যন্ত যুক্তিবাদী এবং তাদের সঙ্গে মার্কিন প্রশাসনের আলোচনা বেশ ফলপ্রসূ হচ্ছে।
ট্রাম্পের এই দাবিটি এমন এক সময়ে এল যখন গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের এক মাস পূর্ণ হয়েছে। তবে এই নতুন গোষ্ঠীটি ঠিক কারা বা ইরানের বর্তমান রাজনৈতিক কাঠামোতে তাদের অবস্থান কী, সে সম্পর্কে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, মার্কিন সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপের মুখে ইরানের পূর্ববর্তী কট্টরপন্থী নেতৃত্ব কোণঠাসা হয়ে পড়েছে এবং বর্তমানে ক্ষমতার কেন্দ্রে নতুন মুখ দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমি এখন সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি দলের সঙ্গে কাজ করছি, যারা আগের তুলনায় অনেক বেশি বাস্তববাদী এবং আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানে আগ্রহী।’ ট্রাম্পের এই মন্তব্য ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির নেতৃত্ব নিয়ে চলমান ধোঁয়াশাকে আরও ঘনীভূত করেছে। এর আগে ট্রাম্প সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন যে মোজতবা খামেনি আদৌ জীবিত আছেন কি না, যা ইঙ্গিত দেয় যে ওয়াশিংটন হয়তো তেহরানের পর্দার আড়ালের অন্য কোনো শক্তির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করেছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, ট্রাম্পের এই ‘নতুন গোষ্ঠী’র দাবিটি মূলত ইরানের ওপর চালানো টানা এক মাসের তীব্র বিমান হামলা এবং অর্থনৈতিক অবরোধের ফসল হতে পারে। গত কয়েক সপ্তাহে ইরানের জ্বালানি কেন্দ্র এবং সামরিক অবকাঠামোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ফলে দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল। ট্রাম্প মনে করেন, তার প্রশাসনের কঠোর নীতি ইরানকে আলোচনার টেবিলে বসতে এবং শাসন কাঠামোর আমূল পরিবর্তন মেনে নিতে বাধ্য করেছে। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো শাসন পরিবর্তনের কথা স্বীকার করেনি, বরং তারা সর্বোচ্চ নেতার লিখিত বার্তা প্রচার করে প্রতিরোধের ডাক দিয়ে যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। যদি সত্যিই ইরানে কোনো মধ্যপন্থী বা ট্রাম্পের ভাষায় ‘যুক্তিবাদী’ গোষ্ঠী ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে থাকে, তবে দীর্ঘস্থায়ী এই যুদ্ধের অবসান ঘটার একটি সম্ভাবনা তৈরি হবে। তবে সমালোচকরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ট্রাম্পের এই দাবিটি যুদ্ধের ময়দানে একটি মনস্তাত্ত্বিক কৌশলও হতে পারে, যার লক্ষ্য হলো ইরানি জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা এবং সশস্ত্র বাহিনীর মনোবল ভেঙে দেওয়া। আপাতত বিশ্ববাসীর নজর এখন তেহরানের দিকে, সেখান থেকে এই ‘নতুন গোষ্ঠী’ সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট বার্তা আসে কি না তা দেখার জন্য। সূত্র : ডেকান হেরাল্ড অনলাইন।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/162905