হামাগুড়ি দিয়ে প্রতিদিন স্কুল যাতায়াত করে গাইবান্ধা সুন্দরগঞ্জের আল-আমিন
সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি : অন্য দশজন শিশুর মতো প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ুয়া আল-আমিন মানুষের মত মানুষ হতে চায়। বাকি শিশুর মতো হাঁটাচলার সক্ষমতা নেই তার। জন্ম থেকে তার ঠোঁট কাটা ছিল। অন্যের কাছ থেকে টাকা ধারদেনা করে চিকিৎসার মাধ্যমে ঠোঁট জোড়া লাগানো হয়। তালু ছিল না, দু’পায়ে দাঁড়াতে পারে না সে। তবুও তার প্রবল ইচ্ছে শক্তির কাছে হার মেনেছে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা।
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের দেওডোবা গ্রামের মফিজুল হোসেন ও সুফিয়া বেগমের একমাত্র ছেলে আল-আমিন(১১)। টানা পোড়নের সংসার চালাতে তার বাবা দিনমজুর ও মা অন্যের বাড়িতে কাজ করেন। শারীরিক প্রতিবন্ধীকতায় চিন্তিত থাকলেও পড়াশুনার প্রতি প্রবল আগ্রহ থাকায় বড় হয়ে আল-আমিন সরকারি চাকরি করবে, সংসারে হাল ধরবে এমনটাই স্বপ্ন দেখছেন শিশুটির বাবা-মা। স্থানীয় দেওডোবা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণিতে লেখাপড়া করছে আল-আমিন।
বাড়ি থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরের পথ স্কুলটি। গ্রামীণ পাকা সড়ক দিয়ে হাঁটু মাড়িয়ে মাড়িয়ে স্কুলে যায় সে। চলতে গিয়ে পায়ে ব্যথা পায়। অনেক সময় হাঁটুর চামড়া উঠে গিয়ে রক্ত বের হয়। শারীরিক প্রতিকূলতাকে ছাপিয়ে হামাগুড়ি দিয়ে প্রায় আধা কিলোমিটার পথ মাড়িয়ে নিয়মিত স্কুলে যাতায়াত করে শিশুটি।
শিশু আল-আমিন জানায়, অন্য শিশুদের মতো তারও ছুটতে ইচ্ছে করে। সহপাঠীদের সাথে খেলতেও স্কুলে যেতে ইচ্ছে করে। কিন্তু তাকে পথ চলতে হয় হামাগুড়ি দিয়ে। এ জন্য তার সাথে খেলতে বা পথ চলতে পছন্দ করে না অনেকেই। বাধ্য হয়ে একাকী হামাগুড়ি দিয়ে প্রতিদিন স্কুলে যায় সে। আল-আমিনের ইচ্ছা বড় হয়ে একজন শিক্ষক হবেন।
আল-আমিনের বাবা মফিজুল বলেন, অন্যের জমিতে কাজ করে কোনো মতো সংসার চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করি। ছেলেটার লেখাপড়া করার খুবেই ইচ্ছে। সে হামাগুড়ি দিয়ে প্রতিদিন স্কুলে যায়। ঠিকভাবে খাওয়াতে পারিনা ছেলেকে, যা বাবা হিসেবে আমার খুবই কষ্ট লাগে।
দেওডোবা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মানিক মিয়া ও মিজানুর রহমান জানান, আল-আমিন লেখাপড়ায় বেশ মনোযোগী। সে নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসে। যত্ন নিলে সে ভবিষ্যতে লেখাপড়ায় ভালো করবে বলে আমাদের বিশ্বাস। তার অদম্য ইচ্ছা শক্তি দ্বারা স্কুলে পড়াশোনা করে যাচ্ছে। এছাড়া আল আমিন একজন প্রতিবন্ধী, হামাগুড়ি দিয়ে চলাচল করে। তার চলাচলের জন্য একটা হুইল চেয়ারের প্রয়োজন।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/162882