বগুড়ার শেরপুরে তিনটি ট্রাক ও বাসের সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ১৫
শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি : বগুড়ার শেরপুরের মির্জাপুরে তিনটি ট্রাক ও একটি যাত্রীবাহী বাসের মধ্যে চতুর্মুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শনিবার দিবাগত রাত ৮টার দিকে মির্জাপুর ইউনিয়নের কবরস্থান সংলগ্ন ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
এতে অন্তত ১৫ জন আহত হন, যাদের মধ্যে ট্রাক ড্রাইবার আলমাস (৫৫) চিকিসাধীন অবস্থায় আজ রোববার (২৯ মার্চ) সকালে মারা যান। তিনি সাভার থানার দেওয়ানবাড়ি পাচগাছিয়া এলাকার মৃত আবু নাসের মিয়ার ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মহাসড়কের ওপর একটি খালি ট্রাকের (বগুড়া ট-১১-০৭০০) হেলপার গাড়িটি ঘোরানোর (ইউ-টার্ন) চেষ্টা করছিলেন। এসময় ঢাকাগামী আলুবোঝাই ‘রিজভী পরিবহন’ (ঢাকা-মে-ট্র-১৮-৬১২৫) নামের একটি ট্রাক দুর্ঘটনা এড়ানোর চেষ্টা করলেও পেছন থেকে আসা ‘সবুরা পরিবহন’ (ঢাকা-মে-ট-১২-০৫৪৬) নামের অপর একটি আলুবোঝাই ট্রাক সেটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়।
এতে রিজভী পরিবহনের ট্রাকটির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঠিক সেই মুহূর্তেই পেছন থেকে আসা ঢাকাগামী ‘এসআই পরিবহন’ (ঢাকা-মে-ব-১৫-৭০৪০) যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাকের পেছনে ধাক্কা দিলে এই ভয়াবহ চতুর্মুখী সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার কাজে এগিয়ে আসেন। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত ১৫ জনকে উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান।
দুমড়ে মুচড়ে যাওয়া গাড়ির মধ্যে আটকে থাকা আলমাসকে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা উদ্ধার করে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করালে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোর ৬টার দিকে তিনি মারা যান। এই দুর্ঘটনার ফলে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের এক পাশে প্রায় তিন কিলোমিটারজুড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে ভোগান্তিতে পড়েন শত শত যাত্রী ও চালক।
এ বিষয়ে শেরপুর হাইওয়ে পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ রইচ উদ্দিন বলেন, আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িগুলো হেফাজতে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/162875