পর্যায়ক্রমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের কাঁচা রাস্তাগুলো পাকা করা হবে: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী
দেশের গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করতে পর্যায়ক্রমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের সমস্ত কাঁচা রাস্তা পাকা করা হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
আজ রোববার ( ২৯ মার্চ) বিকেলে সংসদ অধিবেশনে এনসিপির সদস্য সচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
অধিবেশনে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল রংপুর-৪ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য আখতার হোসেনকে একটি সম্পূরক প্রশ্ন করার কথা জানান।
এসময় আখতার হোসেন বলেন, ‘আমরা যারা প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল থেকে নির্বাচিত হয়েছি, আমরা আমাদের গ্রামের মানুষদের সঙ্গে নিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থার দুরবস্থার কারণে অত্যন্ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছি। আমাদের একেবারে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলগুলোতে একটা অ্যাম্বুলেন্স বাড়ি পর্যন্ত যাওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। এখন বর্ষাকাল সামনে চলে এসেছে, সে বর্ষাকালে মানুষেরা তাদের বাড়িতে পর্যন্ত যেতে পারেন না।’
তিনি বলেন, ‘আমি আবার নির্বাচনি এলাকায় দেখেছি এমন কিছু জায়গা রয়েছে চরাঞ্চল, যেখানে থেকে বাজারে পণ্য পৌঁছাতে গেলে রাস্তার অব্যবস্থাপনার কারণে, রাস্তা না থাকার কারণে সেখানে পণ্যের মূল্য কমে আসে। কৃষককে ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হয়। আবার সামনে শীতকাল, তখন ধুলোবালিতে মানুষদের কষ্ট করতে হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি যদি আমার নির্বাচনি আসনের কথা বলি, সেখানে আমার দুটি উপজেলা রয়েছে। কাউনিয়া উপজেলাতে মোট ৫৩৫ কিলোমিটার রাস্তা রয়েছে, তার মধ্যে মাত্র ১৯৪ কিলোমিটার পাকা করা হয়েছে। আর কাঁচা রাস্তা এখনো আছে ৩৩৭ কিলোমিটার। পীরগাছা উপজেলায় ৮৪২ কিলোমিটার রাস্তা রয়েছে, পাকাকরণ করা হয়েছে মাত্র ২৯১ কিলোমিটার, কাঁচা রাস্তা এখনো ৫৫১ কিলোমিটার। অর্থাৎ আমার রংপুর-৪ আসনে যে ১৩৭৭ কিলোমিটার রাস্তা রয়েছে, তার মাঝে মাত্র ৪৮৯ কিলোমিটার পাকাকরণ করা হয়েছে, এখনো ৮৮৮ কিলোমিটার পাকাকরণ করতে হবে। এর বাইরেও জরিপের বাইরেও আরও হাজার কিলোমিটারের ওপর রাস্তা রয়েছে।’
আখতার হোসেন বলেন, ‘আমার জানতে চাওয়ার বিষয় হলো যে সরকার বিভিন্ন সময়ে অনেক মেগা প্রকল্প গ্রহণ করে থাকে, যে মেগা প্রকল্পগুলোর মধ্য দিয়ে দেশ এগিয়ে যায়। আমাদের মন্ত্রী এবং সরকার, তারা কি এবার আমাদের স্থানীয় পর্যায়ে যাতে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতিটা সঠিকভাবে হয়, মানুষরা যাতে তাদের বাড়ি পর্যন্ত অ্যাম্বুলেন্সটা অন্তত নিয়ে যেতে পারে, সহজে যাতে যাতায়াতটা করতে পারে—সে কারণে রুটিন পাকাকরণ কার্যক্রমের অতিরিক্ত হিসেবে পাকাকরণের জন্য মেগা প্রকল্প গ্রহণ করবে কি না।’
প্রশ্নের উত্তরে এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে উন্নয়নের দোহাই দিয়ে মেগা প্রজেক্টগুলোতে ভয়াবহ দুর্নীতি করা হয়েছে। সেই সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও অনেক উপদেষ্টা নিজ নিজ এলাকার উন্নয়নে পক্ষপাতমূলকভাবে ফান্ড বরাদ্দ নিয়েছেন।’
এ সময় উত্তরবঙ্গের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘অতীতে বিভিন্ন সরকারের সময়ে উত্তরাঞ্চল উন্নয়নের দিক থেকে বারবার অবহেলিত হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার সেই বৈষম্য দূর করতে বদ্ধপরিকর। বিশেষ করে গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের ওপর জোর দেওয়া হবে যাতে সাধারণ মানুষ এর সুফল সরাসরি ভোগ করতে পারে।’ তাই দুর্নীতিকে প্রশ্রয় না দিয়ে আগামী দিনে প্রত্যন্ত অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নকে গুরুত্ব দেয়া হবে বলে জানান মন্ত্রী।