বগুড়ার সোনাতলায় মানচিত্র থেকে মুছে যেতে বসেছে পূর্ব সুজাইতপুর গ্রাম

বগুড়ার সোনাতলায় মানচিত্র থেকে মুছে যেতে বসেছে পূর্ব সুজাইতপুর গ্রাম

সোনাতলা (বগুড়া) প্রতিনিধি : সোনাতলায় যমুনা নদীর অব্যাহত ভাঙনে মানচিত্র থেকে মুছে যেতে বসেছে উপজেলার পাকুল্যা ইউনিয়নের পূর্ব সুজাইতপুর গ্রামটি। শুষ্ক মৌসুমে পানি উন্নয়ন বোর্ড পদক্ষেপ না নিলে খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বন্যা আশ্রয়ন কেন্দ্র, একটি মাদ্রাসাসহ প্রায় ৫ হাজার মানুষের গ্রামটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার শংকা দেখা দিয়েছে। এখন উদ্বেগ উৎকন্ঠার মধ্য দিয়ে দিন-রাত পার করছে মানুষ। এব্যাপারে গ্রামবাসি গত মঙ্গলবার ওই নদীর তীরে ভাঙন রোধে প্রতিকার চেয়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন।

উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৪/১৫ কিলোমিটার পূর্বে পূর্ব সুজাইতপুর গ্রামটি। এক সময় ওই গ্রাম থেকে যমুন নদীর দুরত্ব ছিল প্রায় সাড়ে ৩ কিলোমিটার। নদীর অব্যাহত ভাঙনে নদীটি বর্তমানে পৌছেছে বসতবাড়ি সংলগ্ন স্থানে। নদীতে ঢল নামলেই ভাঙন আরও তীব্র আকার ধারন করবে বলে স্থানীয়দের আশংকা। ওই গ্রামে রয়েছে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি মাদ্রাসা, একটি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, একটি বাজার, একটি দাতব্য চিকিৎসালয় ও একটি বন্যা আশ্রয়কেন্দ্রসহ ৫ হাজার মানুষের বসতবাড়ি।

ওই গ্রামের বাসিন্দা রুলি বেওয়া (৭৫) ও পাকুল্যা ইউনিয়ন কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক মানিক কাজী, সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল করিম শাহিন বলেন, নদী ভাঙন আতংকে দু’চোখে ঘুম আসে না। সারাদিন রাত কাটে টেনশনে। কখন যেন নদীগর্ভে হারিয়ে যায় বসতভিটা। ছেলেমেয়ে নিয়ে কোথায় গিয়ে উঠবো। এছাড়াও তারা আরও বলেন, একসময় নদীটি আমাদের গ্রাম থেকে প্রায় সাড়ে ৩ কিলোমিটার দূরে ছিল। এখন সেই নদীটি ঘরের দুয়ারে এসে উকি মারছে। নদীতে ঢল নামলেই মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে পুরো গ্রামটি। সেইসাথে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন ধরণের স্থাপনা। এখনই নদী ভাঙন রোধে ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে গ্রামটি রক্ষা করা সম্ভব হবে না।

এ বিষয়ে বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের এসও আশাদুল হক বলেন, নদী ভাঙনরোধে প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে। ঘটনাস্থলে আমাদের লোকজনকে পাঠানো হয়েছে। তারা এসে প্রতিবেদন দিলে আমরা মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের জন্য সেটি পাঠাবো।

এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ কাজী রফিকুল ইসলাম বলেন, নদী ভাঙনরোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। 

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/162626