পদ্মাপাড়ে স্বজনদের আহাজারি, নিহত বেড়ে ২৬

পদ্মাপাড়ে স্বজনদের আহাজারি, নিহত বেড়ে ২৬

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৬ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। পদ্মাপাড়ে প্রিয়জনের লাশের অপেক্ষায় স্বজনদের ভিড় ক্রমেই বাড়ছে। তাদের আহাজারিতে ঘাট এলাকায় হৃদয় বিদারক পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

আজ বৃহস্পতিবার (২৬মার্চ) ভোর ৫টা পর্যন্ত ২৩ জনের লাশ উদ্ধার করেন উদ্ধার কর্মীরা। পরে সকাল ৯টার দিকে উদ্ধার করা হয় উজ্জ্বল খান (৩০) নামের এক ব্যাক্তির লাশ। তিনি রাজবাড়ী জেলার কালুখালি উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের ঝাউগ্রামের মজনু খানের ছেলে। সাড়ে ১০টার দিকে উদ্ধার করা হয় আশরাফুল (৩৫) নামে এক যুবকের লাশ। তিনি কালুখালি উপজেলার বেলগাছি গ্রামের মো. আফসারের ছেলে। সোয়া ১১টার দিকে উদ্ধার করা হয় জাহাঙ্গীরের (৫৫) লাশ। তিনি কালুখালি উপজেলার কালিকাপুর গ্রামের বাসিন্দা।

রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-পরিচালক দেওয়ান সোহেল রানা বলেন, ফায়ার সার্ভিসের ৫টি ইউনিটের ১৫ জন ডুবুরি উদ্ধার অভিযানে কাজ করছে। সঙ্গে স্হানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা রয়েছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাস বলেন, উদ্ধার ২৬ লাশের মধ্যে ২৩টি ইতোমধ্যে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। অপর তিনটি লাশ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান। 

গতকাল বুধবার (২৫ মার্চ) বিকাল সোয়া ৫টার দিকে ফেরিঘাটের ৩ নম্বর পন্টুন থেকে যাত্রীবাহী সৌহার্দ পরিবহণের বাসটি নদীতে পড়ে ডুবে যায়। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বাসটিতে ৫০ জনের মতো যাত্রী ছিলেন। 

এর আগে উদ্ধার ২৩ লাশের মধ্যে ছিল-

নিহতরা হলেন—

১) রেহেনা আক্তার (৬১), স্বামী: মৃত ইসমাঈল হোসেন খান, গ্রাম-ভবানীপুর, লালমিয়া সড়ক, রাজবাড়ী পৌরসভা।

২) মর্জিনা খাতুন (৫৬), স্বামী: মো. আবু বক্কর সিদ্দিক, গ্রাম-মজমপুর, ওয়ার্ড-১৮, কুষ্টিয়া পৌরসভা।

৩) রাজীব বিশ্বাস (২৮), পিতা: হিমাংশু বিশ্বাস, গ্রাম-খাগড়বাড়ীয়া, কুষ্টিয়া সদর।

৪) জহুরা অন্তি (২৭), পিতা: মৃত ডা. আবদুল আলীম, গ্রাম-সজ্জনকান্দা, রাজবাড়ী পৌরসভা।

৫) কাজী সাইফ (৩০), পিতা: কাজী মুকুল, গ্রাম-সজ্জনকান্দা, রাজবাড়ী পৌরসভা।

৬) মর্জিনা আক্তার (৩২), স্বামী: রেজাউল করিম, গ্রাম-চর বারকিপাড়া, ছোট ভাকলা, গোয়ালন্দ।

৭) ইস্রাফিল (৩), পিতা: দেলোয়ার হোসেন, গ্রাম-ধুশুন্দু, সমাজপুর, খোকসা, কুষ্টিয়া।

৮) সাফিয়া আক্তার রিন্থি (১২), পিতা: রেজাউল করিম, গ্রাম-চর বারকিপাড়া, ছোট ভাকলা, গোয়ালন্দ।

৯) ফাইজ শাহানূর (১১), পিতা: বিল্লাল হোসেন, গ্রাম-ভবানীপুর, বোয়ালিয়া, কালুখালী।

১০) তাজবিদ (৭), পিতা: কেবিএম মুসাব্বির, গ্রাম-সজ্জনকান্দা, রাজবাড়ী পৌরসভা।

১১) আরমান খান (৩১), পিতা: আরব খান, গ্রাম-পশ্চিম খালখোলা, বালিয়াকান্দি (বাস চালক)।

১২) নাজমিরা ওরফে জেসমিন (৩০), স্বামী: আব্দুল আজিজ, গ্রাম-বেলগাছি, মদেন্দ্রপুর, কালুখালী।

১৩) লিমা আক্তার (২৬), পিতা: সোবাহান মন্ডল, গ্রাম-রামচন্দ্রপুর, মিজানপুর, রাজবাড়ী সদর।

পদ্মা নদীতে তলিয়ে যাওয়া বাসটি উদ্ধার, নিহত বেড়ে ১৬পদ্মা নদীতে তলিয়ে যাওয়া বাসটি উদ্ধার, নিহত বেড়ে ১৬

১৪) জোস্ন্যা (৩৫), স্বামী: মান্নান মন্ডল, গ্রাম-বড় চর বেনিনগর, মিজানপুর, রাজবাড়ী সদর।

১৫) মুক্তা খানম (৩৮), স্বামী: মৃত জাহাঙ্গীর আলম, পিতা: সিদ্দিকুর রহমান, গ্রাম-নোয়াধা, আমতলী, কোটালীপাড়া, গোপালগঞ্জ।

১৬) নাছিমা (৪০), স্বামী: মৃত নূর ইসলাম, গ্রাম-মথুয়ারাই, পলাশবাড়ী, পার্বতীপুর, দিনাজপুর।

১৭) আয়েশা আক্তার সুমা (৩০), স্বামী: নুরুজ্জামান, গ্রাম-বাগধুনিয়া পালপাড়া, আশুলিয়া, ঢাকা।

১৮) সোহা আক্তার (১১), পিতা: সোহেল মোল্লা, রাজবাড়ী পৌরসভা।

১৯) আয়েশা সিদ্দিকা (১৩), পিতা: গিয়াসউদ্দিন রিপন, গ্রাম-সমসপুর, খোকসা, কুষ্টিয়া।

২০) আরমান (৭ মাস), পিতা: নুরুজ্জামান, গ্রাম-খন্দকবাড়িয়া, কাচেরকোল, শৈলকুপা, ঝিনাইদহ।

২১) আব্দুর রহমান (৬), পিতা: আব্দুল আজিজ, গ্রাম-মহেন্দ্রপুর, রতনদিয়া, কালুখালী।

২২) সাবিত হাসান (৮), পিতা: শরিফুল ইসলাম, গ্রাম-আগমারাই, দাদশি, রাজবাড়ী সদর।

২৩) আহনাফ তাহমিদ খান (২৫), পিতা: ইসমাইল হোসেন খান, গ্রাম-ভবানীপুর, রাজবাড়ী সদর।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/162439