যুদ্ধ বন্ধের শঙ্কায় নতুন পাঁয়তারা নেতানিয়াহুর
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির দিকে এগোতে পারেন-এমন আশঙ্কায় নতুন পাঁয়তারা করছে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি তড়িঘড়ি করে ইরানে হামলা জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি চান, যুদ্ধ শেষ হওয়ার আগেই যতটা সম্ভব ইরানের সামরিক ক্ষতি করতে। এ অবস্থায় দেশ দুটির কূটনীতি ও সামরিক কৌশলের দ্বন্দ্ব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
বার্তাসংস্থা আনাদোলু বলছে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানের বিরুদ্ধে বিমান হামলা আরও জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন। তার আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির দিকে এগোতে পারে, তাই এর আগেই যতটা সম্ভব ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করতে চান তিনি। বুধবার (২৫ মার্চ) নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হামলা বাড়াতে বলেছেন নেতানিয়াহু, যাতে ইরানের অস্ত্র শিল্পের বড় অংশ ধ্বংস করা যায়।
মূলত এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ১৫ দফা যুদ্ধ-সমাপ্তি পরিকল্পনা। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েল সরকার ওই পরিকল্পনার কপি হাতে পাওয়ার পর মনে করেছে, এতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা কমাতে যথেষ্ট মনোযোগ দেওয়া হয়নি। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে কোনো সময় শান্তি আলোচনা ঘোষণা করতে পারেন।
তবে এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেন, গণমাধ্যমে একটি পরিকল্পনার কথা তিনি দেখেছেন, তবে সেটি হোয়াইট হাউস নিশ্চিত করেনি। তার দাবি, এতে কিছু সত্যতা আছে, কিন্তু সব তথ্য সঠিক নয়।
এর আগে গত মঙ্গলবার সামরিক সদর দপ্তরে এক বৈঠকে নেতানিয়াহু এই নির্দেশ দেন। সেখানে জ্যেষ্ঠ কমান্ডাররা সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু নিয়ে তাকে ব্রিফ করেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই তাড়াহুড়ার পেছনে একটি বড় বাস্তবতা কাজ করছে যুদ্ধ কখন শেষ হবে, সে সিদ্ধান্ত পুরোপুরি ট্রাম্পের হাতে। ফলে যুদ্ধের পরিণতি নির্ধারণে নেতানিয়াহুর প্রভাব সীমিত। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালাচ্ছে। এতে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৩৪০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিও রয়েছেন।
এর জবাবে ইরান পুরো অঞ্চলে হামলা চালিয়েছে, যার ফলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ও বিমান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। গত সোমবার ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত করেন। একই সঙ্গে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ যোগাযোগও চলছে বলে জানা গেছে।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/162436