বগুড়ার শাজাহানপুরে দু’পক্ষের মধ্যে মারপিট ও বাড়িতে হামলা, গ্রেফতার ৩

বগুড়ার শাজাহানপুরে দু’পক্ষের মধ্যে মারপিট ও বাড়িতে হামলা, গ্রেফতার ৩

শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়ার শাজাহানপুরে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে দু’পক্ষের মধ্যে মারপিট ও বাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বারসহ ৮৭ ব্যক্তির বিরুদ্ধে শাজাহানপুর থানায় পৃথক দু’টি মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। মারপিটে উভয় পক্ষের ৭ ব্যক্তি আহত হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের ৩ জনকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করেছে থানা পুলিশ।

গ্রেফতারকৃতরা হলো উপজেলার মাঝিড়া ইউনিয়নের সাজাপুর দাড়িকামারিপাড়ার রফিকুল ইসলামের ছেলে নাজমুল হাসান (২৬), একই ইউনিয়নের সাজাপুর কালাইহাটাপাড়ার মৃত মানিক মিয়ার ছেলে রিফাত হোসেন (২৫) এবং একই গ্রামের সাজু মিয়ার ছেলে জনি বাবু (২৫)।

এক মামলার বাদি উপজেলার মাঝিড়া ইউনিয়নের সাজাপুর দাড়িকামারিপাড়ার রফিকুল ইসলামের ছেলে নাজমুল হাসান (২৬) এজাহারে উল্লেখ করেন, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে মাঝিড়া ইউনিয়নের ডোমনপুকুর নতুনপাড়ার বাসিন্দা নেকবর আলীর ছেলে মাহবুব (৩৫), মেহেদী (২৬)সহ মোট ৪০ ব্যক্তি ঈদের পরদিন রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে মাঝিড়া বাইপাস মোড়ে জনৈক কুরবান আলীর দোকানের সামনে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে নাজমুল ও তার বন্ধুদের উপর হামলা করে।

এতে নাজমুল (২৮), আরমান (২৭) ও রাব্বি (২৫) নামের ৩ ব্যক্তি আহত হয়। অন্যদিকে অপর মামলার বাদি মাঝিড়া ইউনিয়নের সাজাপুর কালাইহাটা পাড়ার জনি বাবুর স্ত্রী জেমি আকতার (২৫) এজাহারে উল্লেখ করেন তার কলেজ পড়ুয়া ভাগনীকে ৩ মাস আগে কুপ্রস্তাব দিয়েছিল সাজাপুর দাড়িকামারি পাড়ার রফিকুল ইসলামের ছেলে নাজমুল হাসান (২৬)। বিষয়টি তাৎক্ষণিক ভাবে স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের মাধ্যমে শালিশি বৈঠকে আপোস মিমাংসা করা হয়।

কিন্তু তারপরও নাজমুল ও তার সহযোগিরা জেমি আকতারের স্বামী জনি বাবু ও ভাগনে রিফাত কে  নানা রকম হুমকি ধামকি দিতে থাকে। একপর্যায়ে ঈদের পরদিন রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে মাঝিড়া বাইপাস এলাকায় জনৈক কুরবান আলীর দোকানের সামনে জনি বাবু, রিফাত ও তাদের বন্ধুদের উপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত ভাবে হামলা করে নামজমুলসহ মোট ৪৭ ব্যক্তি।

এতে জনি বাবু, রিফাত, মেহেদী ও সিয়াম নামের ৪ ব্যক্তি আহত হয়। স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারিরা পালিয়ে যায়। এর কিছু পরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে ফের জনি বাবু ও রিফাতের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করে নাজমুল ও তার সহযোগিরা। এসময় জনি বাবুর বাড়ি থেকে ২ লাখ ১১ হাজার ৭শ’ টাকা এবং রিফাতের বাড়ি থেকে ২ ভরি স্বর্ণাংকার ও ৩৫ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

হামলা মারপিটের অভিযোগ অস্বীকার করে মাঝিড়া ইউপি সদস্য এনামুল হক জানান, ৩-৪ মাস আগে সাজাপুর কালাইহাটাপাড়ার কলেজপড়ুয়া ছাত্রীকে ইভটিজিং করার বিষয়ে তার পরিবার স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের কাছে বিচার দাবি করেছিল। সেই মোতাবেক গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উভয় পক্ষকে নিয়ে বিষয়টি আপোস মিমাংসা করে দিয়েছিল। কিন্তু ঈদের পরের দিন মাঝিড়া বাইপাসে যে মারামাটির ঘটনা ঘটেছে তার সাথে ওই ইভটিজিং ঘটনার কোন সম্পর্ক নাই।

বাইপাস মোড়ের মারপিটের ঘটনাকে আড়াল করতে ইভটিজিংয়ের মিমাংসিত ঘটনাকে সামনে আনা হয়েছে এবং বসতবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ তুলে দায়ের করা মামলায় আমাকে প্রধান আসামী ও আমার কলেজ পড়ৃয়া ছেলেকে ২নং আসামী করা হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় নিতে প্রশাসনের প্রতি দাবি জাজান ইউপি সদস্য এনামুল হক।

শাজাহানপুর থানার ওসি মো. আশিক ইকবাল জানান, পূর্ব শত্রুতার জেরে মাঝিড়া বাইপাস মোড়ে মারামারি, কলেজপড়ুয়া ছাত্রীকে কুপ্রস্তাব, বসতবাড়িতে হামলা-ভাংচুরের ঘটনায় থানায় পৃথক দু’টি মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। উভয় মামলার ৩ আসামীকে গ্রেফতার পূর্বক আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। বাকি আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান চলমান আছে।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/162365