রোহিঙ্গা ইস্যুতে হাসিনা সরকার পুরা বারোটা বাজিয়ে গেছে: শামা ওবায়েদ
রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় সাবেক সরকারের কড়া সমালোচনা করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে শেখ হাসিনা সরকার পুরা বারোটা বাজিয়ে দিয়ে গেছে।
আজ সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুরে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী । শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে শেখ হাসিনা সরকারের সময় কার্যকর কোনো অগ্রগতি হয়নি।
তিনি আরও বলেন, ‘রোহিঙ্গা ইস্যুতে শেখ হাসিনা সরকারের সময় কার্যকর কোনো অগ্রগতি হয়নি।
সেই জায়গা থেকে বিএনপির রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের অভিজ্ঞতা রয়েছে। আমরা আগেও দুইবার সফলভাবে কাজ করেছি। তবে বর্তমান পরিস্থিতি আগের তুলনায় অনেক বেশি জটিল।
সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্ডার এলাকায় এখন অত্যন্ত ভলাটাইল ও ভালনারেবল অবস্থা বিরাজ করছে। এই বাস্তবতা মাথায় রেখে আমাদের রিপ্যাট্রিয়েশন প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে হবে।
রোহিঙ্গা সংকটকে কেবল কূটনৈতিক নয়, বরং রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবেও দেখছেন তিনি। তার ভাষায়, এটা মোর অফ অ্যা পলিটিক্যাল ইস্যু, তারপর ডিপ্লোম্যাটিক ইস্যু।
সমাধানের পথ নিয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, মিয়ানমার সরকার ও আরাকান আর্মি—উভয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে। রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের জন্য সেখানে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।”
তিনি জানান, মিয়ানমারে নতুন সরকারের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে এবং আরাকান আর্মির সঙ্গেও বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ চলছে।
এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “শুধু দ্বিপাক্ষিকভাবে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। আসিয়ান দেশ, চীন, ভারত, মুসলিম বিশ্ব এবং পশ্চিমা দেশগুলোর শক্তিশালী সহযোগিতা প্রয়োজন। কারণ রোহিঙ্গা সংকট এখন বৈশ্বিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।”
বাংলাদেশের মানবিক ভূমিকার কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমরা মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছি। তবে তাদের নিজ দেশে নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে কৌশলগতভাবে এগোতে হবে।”
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “গত ১৭ বছরে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্তদের বিচার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। শেখ হাসিনাসহ যাদের বিরুদ্ধে বিচার চলছে, তাদের আইনের আওতায় আনতে সরকার কাজ করছে এবং এই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।”
তিনি আরও বলেন, জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় আসা বিএনপি সরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।