দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে মোবাইল ফোনে হুমকি ও মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি
ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে ‘সর্বহারা পার্টি’র পরিচয় দিয়ে মোবাইল ফোনে প্রাণনাশের হুমকি ও মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবির ঘটনা বেড়েছে। গত দশদিনে একটি নির্দিষ্ট মোবাইল নম্বর থেকে অন্তত ১০ জনের কাছে কল করে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়েছে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। টাকা না দিলে অপহরণ ও সপরিবারে হত্যার হুমকি দেওয়ায় স্থানীয় ব্যবসায়ী, শিক্ষক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
জানা গেছে, গত ২১ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে একটি গ্রামীণফোন নম্বর থেকে এ কলগুলো করা হয়। ৩ মার্চ বিকেলে ফোন আসে ফুলবাড়ী মহিলা ডিগ্রি কলেজের আইসিটি প্রদর্শক মোস্তাক আহমেদের কাছে। তাকে বলা হয়, ‘তোর তো ভালো অবস্থা, আমাদের এক লাখ টাকা দিতে হবে।’ মোস্তাক আহমেদ পাল্টা ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা বললে অপরপ্রান্ত থেকে কটূক্তি করে ফোন কেটে দেওয়া হয়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি কসমেটিকস ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলমের কাছে দুই লাখ টাকা এবং ২৭ ফেব্রুয়ারি চাঁদপাড়া এলাকার মুদি ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলামের কাছে চাঁদা দাবি করা হয়। শফিকুল ইসলাম টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তার স্কুলপড়ুয়া ছেলেকে নিয়ে ভয়ভীতি দেখানো হয়। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি রেলগেটের রবিউল ইসলামকেও একইভাবে হুমকি দেওয়া হয়েছে।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি কাটাবাড়ী গ্রামের গরু ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলামের কাছে ফোন করে চার লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। আমিনুল ইসলাম জানান, ‘সর্বহারা পার্টি টাকার ওপর চলে’ বলে তাকে ভয় দেখানো হয়। একই গ্রামের মাহবুব আলম টনিকেও ফোনে হুমকি দেওয়া হয়েছে।
২১ ফেব্রুয়ারি কলেজ শিক্ষক ইমরান পারভেজকে ফোন করে জানানো হয়, তাকে অপহরণের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। রক্ষা পেতে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন এক ‘রোগীর’ ৬০ হাজার টাকা বিল পরিশোধ করতে বলা হয়। শিক্ষক অপারগতা জানালে তাকে ক্ষতির হুমকি দেওয়া হয়।
একইভাবে ভয়ভীতি ও হুমকির শিকার হয়েছেন পৌরসভার গড় ইসলামপুরের সাজ্জাদ হোসেন, গৌরীপাড়ার তোফাজ্জল মিয়া এবং আলাদিপুর ইউনিয়নের বাসুদেবপুর গ্রামের বাদশা হোসেন। প্রত্যেকের কাছেই মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়েছে এবং টাকা না দিলে বড় ধরনের ক্ষতির হুমকি দেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, চাঁদা দাবি করার পর নম্বরটি সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফোনদাতারা কৌশলে মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে এমনভাবে কথা বলছেন, যাতে সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। ফুলবাড়ী থানা ব্যবসায়ী সমিতির আহ্বায়ক আব্দুল কাইয়ুম আনসারী বলেন, ‘অনেকে আমার কাছে এসে এই হুমকির বিষয়ে জানিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে আমরা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেছি।’
উপজেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যক্ষ খুরশিদ আলম বলেন, ‘আমাদের এলাকায় এ ধরনের ঘটনা আগে ঘটেনি। প্রশাসন যেন দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়।’ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল লতিফ শাহ জানান, ‘অভিযুক্ত নম্বরটি ভোলার চরফ্যাশন এলাকার এক নারীর নামে নিবন্ধিত, তবে বর্তমান লোকেশন দেখাচ্ছে ঢাকার আজিমপুর।
আমাদের কাছে কয়েকটি লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ এসেছে। নম্বরটি বর্তমানে বন্ধ থাকলেও আমরা অপরাধীকে শনাক্ত করতে কাজ করছি।’ তিনি সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে এ ধরণের কল এলে দ্রুত থানায় অবহিত করার পরামর্শ দিয়েছেন।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/161802