ঈদে পর্যটকদের জন্য প্রস্তুত নওগাঁর পর্যটনকেন্দ্রগুলো
নওগাঁ প্রতিনিধি : ঐতিহাসিক পর্যটন ও বিনোদন কেন্দ্রতে ভরা নওগাঁ জেলা। নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় বিহার। আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে পর্যটকদের বরণ করতে ইতোমধ্যেই প্রস্তুত করা হয়েছে এই ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থানকে।
এছাড়া ধামইরহাট উপজেলার জাতীয় উদ্যান আলতাদীঘি, জগদ্দল মহাবিহার, ভীমের পান্টি, পত্নীতলা উপজেলার ঐতিহাসিক দিবর দিঘি, মান্দা উপজেলার ঐতিহাসিক কুসম্বা মসজিদ, আত্রাই উপজেলার কবিগুরুর কাচারী বাড়ি, জেলা পরিষদ শিশু পার্কসহ অন্যান্য পর্যটন ও বিনোদন কেন্দ্রগুলো ইদে পর্যটকদের বরণের অপেক্ষায়।
অপরদিকে নতুন করে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে দেশজুড়ে ভ্রমণ পিপাসুদের মাঝে ব্যাপক ভাবে সাড়া ফেলেছে জেলার রাণীনগর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী হাতিরপুলের রতনডারা খাল এলাকায় বিনির্মাণ করা প্রাকৃতিক পরিবেশে পাখি পল্লী পর্যটন এলাকা। বিশেষ করে পাখি পল্লীতে নির্মাণ করা ঝুলন্ত সেতুর আদলে তৈরি করা সেতুটি ইতোমধ্যই বিভিন্ন গণমাধ্যম ও ভিডিও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের মাধ্যমে দেশজুড়ে ব্যাপকভাবে পরিচিতি লাভ করেছে।
হরেক রকমের রঙ-এর ছোঁয়ায় বর্ণিল আকার ধারণ করা ঝুলন্ত সেতুটি ইউটিউব ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। রঙিন ঝুলন্ত সেতুর আকর্ষণে পাখি পল্লীতে গত ইদের চেয়ে আসন্ন ইদে দ্বিগুনের চেয়ে লক্ষাধিক পর্যটকদের আগমন ঘটবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রাকিবুল হাসান।
নওগাঁর রাণীনগর উপজেলাটি ইতিহাস আর ঐতিহ্যে সমৃদ্ধশালী হলেও পূর্বে কোন বিনোদন কেন্দ্র ছিলো না। বিভিন্ন উৎসবের দিনে পরিবার নিয়ে একটু সময় কাটানোর মতো মুক্ত স্থান নেই। এমন প্রয়োজনের তাগিদে ২০২৪ সালের শেষে দিকে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাইমেনা শারমিন তৎকালীন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আউয়ালের সার্বিক সহযোগিতা নিয়ে উপজেলার রাণীনগর-আবাদপুকুর আঞ্চলিক সড়কের ঐতিহ্যবাহী হাতিরপুল এলাকায় রক্তদহ বিলের সংযোগ খাল রতনডারাকে বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে বিনির্মাণ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেন।
এরপর পুরো রতনডারা খালকে মৎস্য অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হয়। আর খালের দুই পাশের বড় বড় গাছকে বিনোদন কেন্দ্রের উপজীব্য করে গড়ে তোলা হয় রক্তদহ বিল পর্যটন এলাকা ও পাখি পল্লী। প্রতিটি উৎসবে প্রাকৃতিক পরিবেশে গড়ে ওঠা এই বিনোদন কেন্দ্রে হাজার হাজার প্রকৃতি প্রেমী পর্যটকরা বিশুদ্ধ বিনোদনের আশায় পরিবার নিয়ে ছুটে আসেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: রাকিবুল হাসান জানান আমাদের দেশটি অনেক সুন্দর। তাই ভাবনাগুলোকে সুন্দর করলে প্রতিটি স্থানই সুন্দর হয়। রাণীনগর একটি সমৃদ্ধশালী উপজেলা হওয়া সত্ত্বেও বিনোদনের কোন স্থান নেই। সেই অভাবটি পূরণ করতেই পূর্বের স্যারদের গৃহিত পদক্ষেপগুলোকে জেলা প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতা নিয়ে শতভাগ বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন তিনি।
এছাড়া যান্ত্রিক জীবনধারার বাহিরে একটু প্রকৃতির কোলে বসে পরিবারসহ কিছুটা সময় অতিবাহিত করা এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থধারার বিনোদন কেন্দ্র বিনির্মাণ করার লক্ষ্যকে সামনে রেখেই পাখি পল্লীর সৃজন করা।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/161786