নেত্রকোনায় ঐতিহ্যবাহী বারুণী মেলা
নেত্রকোনার পুরনো ঐতিহ্য বারুণী মেলা বসেছে বড় বাজার বটতলায়। প্রতি বছরের ন্যায় বাঙালির ঐতিহ্যবাহী বারুণী মেলা ঘিরে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে নেত্রকোনায়। বসন্ত তিথিতে পঞ্জিকা অনুযায়ী পনাতীর্থ দিনে চৈত্র মাসের প্রথমে কয়েকশত বছর ধরে শহরের বড় বাজার এলাকার মন্দির সংলগ্ন বট তলায় এই মেলা জমে।
আজ মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত পর্য়ন্ত চলে এই বারুণী মেলা। মেলায় চিনি গুড়ের তৈরী হাতি ঘোড়ার সুস্বাদু খাবার বিক্রি হয় বেশিরভাগ। ওঠে বিন্নি ধানের খই। জেলার বাইরে থেকেও দোকানিরা আসেন। বসেছে নানা রঙের খেলনার পসরা। মাটির তৈরী বিভিন্ন পুতুল পশু পাখিও নিয়ে বসেছেন মাটি কারিগররা। কিশোরগঞ্জে আঠারো বাড়ি থেকে বিন্নি খই নিয়ে আসা মো. রুবেল মিয়া বলেন এক ধরনের বিন্নি ধান দিয়ে এই খই তৈরী করা হয়। এটি আঠারো বাড়ি থেকে নিয়ে এসেছি। বিভিন্ন স্থানে মেলা হলে শুধু মেলাতেই এই বিশেষ খাবার বিক্রি হয়।
চিনি গুড়ের হাতি ঘোড়ার খাবার বিক্রেতা বিপুল রায় বলেন, চিনি গুড়ের সুস্বাদু হাতি ঘোড়া সদৃশ খাবার আমরা এই একটি দিনের জন্য তৈরী করি। সারাবছর এটি করা হয় না। তবে এমন মেলা হলে সেখানে যাওয়া হয়। মাটির ব্যংক, ডংকাসহ পাখি হাতি ঘোড়া নিয়ে বসেছেন মৃৎ শিল্পীরা। তারাও এসকল জিনিস বানিয়ে রাখেন বিভিন্ন মেলায় বিক্রি করতে। এই বারনি মেলা ছাড়াও চৈত্র সংক্রান্তি, বাসন্তি, অষ্টমি স্নানের সময় বৈশাখের সময় মেলাতে তারা এসকল পন্য বিক্রি করেন। এই মেলাকে নেত্রকোনা জেলা শহরের ঐতিহ্য বলে জানান স্থানীয়রা। বড় বাজারের তুষার কান্তি রায় বলেন, কয়েশত বছর ধরেই এই বারনি মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এডভোকেট সিতাংশু বিকাশ আচার্যা, নেপাল চন্দ্র বলেন, এটি আমাদের বাপ দাদার আমল থেকে দেখে আসছি। এটি বাঙ্গালির ঐহিত্য ধারণ করে।
নেত্রকোনা সরকারী কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধান লেখক গবেষক অধ্যাপক সরোজ মোস্তফা জানান, এই মেলা হচ্ছে চিরায়ত বাংলার রূপ। এটিকে কেন্দ্র করে এই কালিগঞ্জ শহর এক মিলনমেলায় পরিণত হতো। কালের আবর্তে শহরের নাম কালিগঞ্জ থেকে এখন নেত্রকোনা নামকরণ হলেও মানুষের মাঝে বছর শেষে একটি উৎসব মুখর পরিবেশে কেনাকাটার আয়োজন সেটি এখনো রয়েছে গেছে।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/161648