সিরাজগঞ্জে চাহিদা মত ডিজেল না পাওয়ায় ফসলের উৎপাদন নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক
সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি : সিরাজগঞ্জে বোরো মৌসুমের শুরুতেই চাহিদা মত ডিজেল না পাওয়ায় বোরোসহ অন্যান্য ফসলের উৎপাদন নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। স্থানীয় বাজার ও তেল পাম্পগুলোতে সেচ যন্ত্রে ব্যবহারের জন্য চাহিদা মত ডিজেল সরবরাহ করছেনা বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আবার কোন কোন দোকানে অতিরিক্ত দাম নেয়ার কথাও জানিয়েছে অনেকে।
সিরাজগঞ্জ কৃষিসম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলায় এবছর ১ লাখ ৪১ হাজার ৭৫৫ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ১৬ হাজার ৯৪৭ মেট্রিক টন চাল।
আর এর জন্য মোট ১৩টি গভীর, ৩৩ হাজার ৭৩৪টি অগভীর এবং ৩৭৯টি এলএলপি সেচ পাম্প রয়েছে। ডিজেল চালিত সেচ পাম্পের আওতায় গভীর পাম্পে ২৮৫ হেক্টর, অগভীর পাম্পে ৫১ হাজার ৭৭৫ হেক্টর এবং এলএলপি পাম্পে ৬৭৫ হেক্টর জমি রয়েছে।
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার চন্দ্রকোনা পশ্চিমপাড়া গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম জানান, ১০ বিঘা জমিতে দৈনিক তেলের চাহিদা ৫ লিটার কিন্তু পাম্পগুলোতে গেলে চাহিদামত তেল দেয়না। এতে প্রয়োজনমত জমিতে সেচ দিতে পারছেন না। কৃষক ওমর ফারুক জানান, চাহিদা মত তেল না পাওয়ায় সেচ কর্যক্রম ব্যহত হচ্ছে।
এ অবস্থা বেশিদিন চললে ধানের ফলনে বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে। কামারখন্দ উপজেলা বড়কুড়া গ্রামের আব্দুল হাকিম জানান, গত শুক্রবার জামতৈল রেলস্টেশন বাজারে প্রতিলিটার ডিজেল ১৫ টাকা বেশি চেয়েছে। তাই তেল না কিনে বাড়ি ফিরে যান তিনি। এব্যাপারে তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শর্সিষ্ঠা সেন গুপ্তা জানান, খুচরা বাজারে তেল পাওয়া যাচ্ছে। তেলর দাম একটু বেশি হলেও সেচকার্যে তেমন প্রভাব এখন পর্যন্ত পরেনি।
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এসএম নাসিম হোসেন বলেন, গত ১২ মার্চ উপজেলা সমন্বয় সভায় বিষয়টি উত্থাপন করা হয়েছে। সভার সভাপতি ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মামুন খান বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখবেন বলে জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক একেএম মঞ্জুরে মওলা বলেন, ডিজেল চালিত সেচ পাম্পে জ্বালানি তেল এবং বিদ্যুতায়িত সেচ পাম্পে বিদ্যুৎ সরবরাহে অগ্রাধিকার দেয়ার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
এব্যাপারে কৃষি বিভাগের পাশাপাশি উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের নজরদারির জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। সমস্যা হলে জরুরি ভিত্তিতে সমাধানের ব্যবস্থা করতে হবে। বিষয়টি জ্বালানি এবং বিদ্যুৎ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ সবসময় নজর রাখছেন। আশাকরি সেচের সমস্যা হবে না।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/161546