খাল খননের মাধ্যমে পানির সমস্যা সমাধান করব : তারেক রহমান

খাল খননের মাধ্যমে পানির সমস্যা সমাধান করব : তারেক রহমান

বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আমরা এমন একটা দল করি, যে দলের কাজ হচ্ছে মানুষের উপকার করা। তিনি বলেন, সারাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে আমরা খান খনন কর্মসূচি শুরু করেছি। এই খাল খননের মাধ্যমে পানির সমস্যা সমাধান করব।আজ সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলায় সাহাপাড়ায় খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে তিনি এ কথা বলেন। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, আমরা এমন একটা দল করি, যে দলের কাজ হচ্ছে মানুষের উপকার করা। সেই কাজ করা, যেগুলো করলে মানুষের উপকার হবে। তাই আজকে আমরা এখানে এসেছি। সাহাপাড়ায় খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাহাপাড়ায় খাল খনন শেষ হলে এ এলাকার ৩১ হাজার কৃষক পানি পাবেন এবং ১২শ’ হেক্টর জমি সেচের সুবিধা হবে। প্রায় সাড়ে ৩ লাখ মানুষ সরাসরি এই খাল থেকে সুবিধা পাবেন। তিনি আরও বরেন, ‘সারাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে আমরা খান খনন কর্মসূচি শুরু করেছি। এই খাল খননের মাধ্যমে পানির সমস্যা সমাধান করব। একইভাবে এই খান খননের মাধ্যমে আমরা পাড়ের দুই পাশে ফলের গাছ রোপণ করব, মূল্যবান গাছ রোপণ করব, যাতে দেশের সম্পদ বৃদ্ধি হয়। 

তারেক রহমান বলেন, আজকে এখানে খাল খনন করলাম, আগামী পাঁচ বছরে ইন—শা—আল্লাহ সমগ্র বাংলাদেশে আমরা প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করব। বর্ষার সময় হঠাৎ করে উজান থেকে পানি চলে আসে, নদী—খাল সব বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে উজান থেকে যখন হঠাৎ করে পানি আসে তখন দেখি যে আমরা, নদী খাল—বিলের আশেপাশে যে বাড়িঘরগুলো আছে সেগুলো ভেসে যায়, গরু—ছাগলগুলো ভেসে যায়, ঘরের জিনিসপত্র নষ্ট হয়ে যায়, এইরকম সমস্যা যেন না হয়। আমরা চাই খাল খননের মাধ্যমে বর্ষার সময় যে অতিরিক্ত পানিটা, সেই পানিটা আমরা ধরে রাখব। এই পানিটা ধরে রাখতে পারলে সবার উপকার হবে। যাতে শুষ্ক মৌসুম বা বর্ষা মৌসুম, সব মৌসুমে যেন আমরা পানিটা কাজে লাগাতে পারি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বিরাট দেশ একটা। ২০ কোটি মানুষ এই দেশে। এত মানুষের খাবার কি বিদেশ থেকে আনা সম্ভব, বিদেশ থেকে আনা সম্ভব না। এই খাবার আমাদেরকে দেশেই উৎপাদন করতে হবে। আল্লাহ এই দেশের মাটিকে এত উর্বর করে দিয়েছেন যে, বীজ রোপণ করে পানির ব্যবস্থা করলেই ফসল উৎপাদন করা যায়। কাজেই আল্লাহর নেয়ামত এই পানিটাকেই আমাদের সঠিকভাবে ব্যবহার করতে হবে মানুষের উপকারে। শুধু খাল না, খালের পাশে যে জায়গা পাবো সেখানে আমরা হাজার হাজার বৃক্ষ রোপণ করব। এই খালের পাশ দিয়ে রাস্তা হবে, যেন আপনাদের হাঁটাচলার জন্য সুবিধা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন যেহেতু শুষ্ক মৌসুমে নদীতে পানি নেই, খালে পানি নেই, আমাদেরকে ডিপ টিউবওয়েল দিয়ে মাটির নিচ থেকে পানি তুলে আনতে হয়। এভাবে মাটির নিচ থেকে পানির স্তর আরও নিচে নেমে যাচ্ছে। তাই আমাদেরকে মাটির ওপরের পানি যতটুকু সম্ভব ধরে রেখে মাটির নিচের পানি রিজার্ভ রাখতে হবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য।

সোমবার দুপুরে দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুরে ‘সাহাপাড়া খাল’ খননের মাধ্যমে ‘দেশব্যাপী নদী—নালা—খাল, জলাধার খনন ও পুনঃখনন’ কর্মসূচি উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। উদ্বোধন শেষে তিনি খালের পাড়ে একটি বৃক্ষ রোপণ করেন। প্রধানমন্ত্রীর সাহাপাড়া খাল পুনঃখনন উদ্বোধনের মাধ্যমে দেশব্যাপী ‘নদী—নালা—খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখনন’ কর্মসূচির বাস্তবায়ন কাজ শুরু হলো। সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী, নালা, খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখননের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে দেশের ৫৪টি জেলায় এ কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। 

 

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/161447