বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে ইউটিউব দেখে সরিষার আবাদ, সাড়া ফেলেছে এলাকায়

বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে ইউটিউব দেখে সরিষার আবাদ, সাড়া ফেলেছে এলাকায়

সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি: ইউটিউব দেখে সারিয়াকান্দিতে সামিউল ইসলাম নামের একজন বিদেশ ফেরৎ কৃষক সরিষার আবাদ করে সফলাতার মুখ দেখেছেন।  এ উপজেলায় প্রথমবারের মতো উচ্চ ফলনশীল স্মিতা- ৭৭ (হরিনা) জাতের সরিষার আবাদ করেছেন তিনি। গাছপ্রতি ৩০০ থেকে ৫০০ গ্রাম পর্যন্ত সরিষার ফলন হয়েছে। সামিউলের এ সাফল্যে এলাকাজুড়ে কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের জোরগাছা গ্রামের কৃষক সামিউল ইসলাম ১৩ বছর বিদেশে কাজ করেছেন। এরপর দেশে এসে করেছেন ড্রাগন এবং আঙ্গুরফলের বাগানসহ বিভিন্ন ধরনের উচ্চ ফলনশীল জাতের ফসলের আবাদ। ইউটিউব ঘেঁটে তিনি এ বছর তার ২৬ শতাংশ জমিতে উচ্চ ফলনশীল স্মিতা-৭৭ ( হরিনা) জাতের সরিষার আবাদ করেছেন।

যা এ উপজেলায় এই প্রথম। দেরিতে চাষ করলেও সরিষার গাছগুলো এখন ৭ থেকে ১০ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়েছে। প্রতিটি গাছ থেকে ১৫ থেকে ২০ টি পর্যন্ত শাখা প্রশাখা বের হয়েছে। প্রতিটি শাখায় থোকায় থোকায় সরিষার দানা ধরেছে। সামিউল ধারণা করছেন প্রতিটি সরিষার গাছে ৩০০ গ্রাম থেকে শুরু করে ৫০০ গ্রাম পর্যন্ত সরিষার বীজ পাওয়া যাবে।

দু চারদিনের মধ্যেই তিনি সরিষা কর্তন করা শুরু করবেন। সরিষার পাশাপাশি কৃষক সামিউল আঙ্গুর এবং ড্রাগন ফলেরও বাগান করেছেন। সেখান থেকেও তিনি বেশ লাভবান হয়েছেন। ২৬ শতাংশ জমিতে তার ৮ হাজার টাকার মতো খরচ হয়েছে। তিনি আশা করছেন পুরো জমির সরিষা তিনি ৪০ হাজার টাকার মতো বিক্রি করতে পারবেন।

সামিউল বলেন, ইউটিউব থেকে আমি এ জাতের সরিষার আবাদ করতে আগ্রহী হয়েছি। এটি সাধারণত অক্টোবর মাসের মাঝামাঝি সময়ে জমিতে বপন করতে হয়। তবে আমি দেরিতে বপন করেছি, তাই ফলন একটু কম হয়েছে। এ সরিষা সাধারণত প্রতি গাছে ৫০০ গ্রাম থেকে শুরু করে ১০০০ গ্রাম পর্যন্ত হয়ে থাকে। বিঘাপ্রতি ফলন ১২ থেকে ১৫ মণ পর্যন্ত।

আমি ধারণা করছি আমার ২৬ শতাংশ জমিতে ১০ মণ সরিষা পাবো।  সাধারণ সরিষার মতো ছিটিয়ে বপন না করে এটি সাধারণত ২ থেকে আড়াই ফুট দূরত্বে সারিতে বপন করতে হয়। এ সরিষার তেলও বেশি হয়। সাধারণ সরিষায় যেমন মনপ্রতি ১৫ লিটার করে তেল হয়, সেখানে এ সরিষা থেকে মনপ্রতি ১৯ লিটার পর্যন্ত তেল হয়।

সারিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩৭৫০ হেক্টর। যা ৩৩০০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে এবং কর্তন হয়েছে। উৎপাদন হয়েছে ৫ হাজার ৩০০ কেজি সরিষা। সাধারণত কৃষকরা বোরোধান এবং আমনধানের মধ্যবর্তী সময়ে জমি ফেলে না রেখে বাড়তি ফসল হিসেবে সরিষার আবাদ করেন।

সারিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, কৃষক সামিউলের মতো এ উপজেলায় অনেক বেকার যুবক কৃষি উদ্যোক্তা হয়ে লাভবান হচ্ছেন। এ উপজেলায় প্রথম স্মিতা-৭৭ নামের একটি উচ্চ ফলনশীল জাতের সরিষার আবাদ করেছেন তিনি।

তার সরিষার আবাদ ইতিমধ্যেই পরিদর্শন করা হয়েছে এবং ফলন বেশ ভালো হয়েছে। সাধারণ সরিষার ফলন যেখানে বিঘাপ্রতি ৫ থেকে ৬ মণ পর্যন্ত হয়, সেখানে এ জাতের সরিষার ফলন বিঘাপ্রতি ১২ থেকে ১৫ মণ পর্যন্ত হয়। আশা করা যাচ্ছে আগামি বছর এ উপজেলায় এ সরিষার আবাদ ব্যাপকভাবে হবে।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/161116