ঠাকুরগাঁওয়ে গমের আবাদ কমেই চলেছে
ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি: উৎপাদনের দিক দিয়ে দেশের সর্বোচ্চ গম উৎপাদনকারী জেলা হিসেবে পরিচিত ঠাকুরগাঁও। উত্তরের এই জেলার মাটি এবং আবহাওয়া গম চাষের উপযোগী। জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায়, গমের গাছ সোনালী বর্ণের রূপ ধারণ করেছে। আর কিছুদিনের মধ্যে গম কাটা-মারা শুরু হবে।
জেলায় গমের আবাদ বরাবরই ভালো হয়। তবে গম চাষ লাভজনক না হওয়ায় মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন কৃষকরা। ঝুঁকছেন ভুট্টা চাষে। গমের থেকে ভুট্টার দাম বেশি পাওয়ায় ঠাকুরগাঁওয়ে বিগত কয়েক বছরে কমেছে গমের আবাদ।
কৃষকদের অভিযোগ, ক্ষেত প্রস্তুত থেকে শুরু করে গম রোপণ, সার, কীটনাশক, সেচ এবং গম কাটা মারার খরচ বেড়েছে। বাজারে ন্যায্য মূল্য পাওয়াও দুষ্কর হয়ে পড়েছে। এদিকে কম খরচে উৎপাদন বেশি হওয়ায় গমের পরিবর্তে দিন দিন আবাদ বেড়েছে ভুট্টার।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে জেলায় গম আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৩১ হাজার ৫শ’ হেক্টর জমিতে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ২৬ হাজার ৯৪৫ মেট্রিক টন।
সদর উপজেলার নারগুন বোচাপুকুর পোকাতি গ্রামের কৃষক মো: সোহেল রানা বলেন, কয়েক বছর আগে গম চাষ করতাম। গমে লাভ কম হওয়ায় এখন ভুট্টা আবাদ করি। একইভাবে ওই এলাকার কৃষক বুলবুল আহমেদ, ধনিবুল্লা গম ছেড়ে ঝুঁকেছেন ভুট্টা চাষে।
সদর উপজেলার সালন্দর ইউনিয়নের বরুনাগাঁও ঘাটপাড়া এলাকার গমচাষি ভুট্টু ইসলাম বলেন, গমের চেয়ে ভুট্টা ও আলুর উৎপাদন বেশি হয়। দামও ভালো পাওয়া যায়। এক বিঘা জমিতে গম আবাদ করতে ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়। আর উৎপাদিত গম বিক্রি করে সর্বোচ্চ ২০ থেকে ২২ হাজার টাকা পাওয়া যায়। অন্যদিকে এক বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষ করে পাওয়া যায় ৩০ থেকে ৩২ হাজার টাকা। যেটি অনেক লাভজনক।
ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো: মাজেদুল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে অন্যান্য ফসল বিশেষ করে ভুট্টা শাকসবজি ও ধানের আবাদ বৃদ্ধি পাওয়া এবং এগুলোর দাম ভালো পাওয়ার কারণে কৃষকরা এসব ফসলের দিকে ঝুঁকছেন। এর ফলে দিন দিন ঠাকুরগাঁও জেলায় গমের আবাদ কমে আসছে। কৃষি বিভাগ গম চাষিদের ক্ষেত্রে প্রতিনিয়ত উচ্চ ফলনশীল গমের জাত এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়ে আসছে।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/161084