বগুড়ার ধুনটে যমুনা নদীর চরের বালিয়াড়িতে সোনালি ফসলে স্বপ্নের হাতছানি
ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি : প্রথমে জেগে ওঠে চর। চিক চিক বালু কণার আস্তরণ। সেখানে প্রাকৃতিক ভাবে জন্মে কাঁশবন। কোথায় আবার গজে ওঠে ঝাউ গাছ। চরের বালুকণা ভেদ করে জন্ম নেয় নানা জাতের আগাছা। দফায় দফায় বন্যায় জেগে ওঠা ধু-ধু বালু চরে পালি মাটির স্তর পড়তে থাকে। এ ভাবেই কেটে যায় অন্তত ৫-৭ বছর।
তারপর আগাছা পরিস্কার ও কাঁশবন-ঝাউ গাছ কেটে চাষযোগ্য জমি তৈরি। এ ভাবেই বদলে যায় চরের অবয়ব। সেখানে এখন চাষ হচ্ছে নানা জাতের ফসল। চরের বুকে যেন শুরু হয়েছে নীরব এক কৃষি বিপ্লব। সোনালি ফসলে স্বপ্নের হাতছানি। বালুচরে ফসল ফলিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন হতদরিদ্র মানুষেরা। বগুড়ার ধুনট উপজেলায় যমুনা নদীর বুকে জেগে ওঠা দূর্গম চর এলাকা ঘুরে এমন সুজলা-সুফলা শষ্য শ্যামলা সবুজের সমারোহ চোখে পড়ে।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলার একটি ইউনিয়নের নাম ভান্ডারবাড়ি। এই ইউনিয়নের পূর্ব পাশ দিয়ে বহমান যমুনা নদী। প্রায় ৫০ বছর ধরে যমুনা নদী ভাঙছে। এই ভাঙনের খেলার যেন শেষ নেই। দীর্ঘ সময়ের ভাঙনে ইতিমধ্যে ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়নের ১৪টি গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। প্রতি বছরই যমুনা নদীর পূর্ব তীরে একটু একটু করে জেগে ওঠছে বালুচর। এসব চরে নানা জাতের ফসল চাষাবাদ হয়।
যমুনার বুকে জেগে ওঠা এসব চরের বিস্তৃতি বাড়ার পাশা পাশি তা স্থায়ী চরে রূপ নিচ্ছে। এক সময় চরের বালুর আস্তরন পড়া অনাবাদি জমি ক্রমশ আবাদি জমিতে পরিণত হচ্ছে। আর এসব জমিতে এখন আবাদ হচ্ছে নানা অর্থকরী ফসল।
এ সব ফসলের মধ্যে রয়েছে, ধান, পাট, ভ’ট্রা, মরিচ, গম, মসুর, খেসারি, ছোলা, চিনাবাদাম, মিষ্টি আলু, কেশর, পেয়াজ,রসুন, তিল, তিশি, কালোজিরা, কালো বোরো ধান, আখ ও মাসকালাই। চরের কৃষক আব্দুল আজিজ জানান, যমুনা নদীতে বিলীন হওয়া তার ৫ বিঘা জমির মধ্যে প্রায় ৩ বিঘা জমি জেগে ওঠেছে। চরের জমির পরিমান ক্রমশ বাড়ছে।
পলি পড়ে ফসল চাষে উপযোগী হচ্ছে এসব জমি। প্রায় ৩০বছর আগে তার পূর্ব পুরুষের জমিতে নতুন উদ্যমে আবারো নানা ফসলের চাষ শুরু করেছেন তিনি। চরে পূর্ব পুরুষের স্মৃতি মাখা জমির আইলে বসে থাকা আশীতপর বৃদ্ধ কোরবান আলী জানান, তার কৈশরে এসব জমি যমুনা নদীতে বিলীন হয়েছিল। জমিজিরাত হারিয়ে তিনি একেবারেই নিঃস্ব হন।
কিন্ত ১৫ বছর পর সেই জমি জেগে ওঠায় তার চোখে মুখে এখন স্বস্তির ছোয়া। প্রথম দিকে চরের এই জমিতে কালাই, চিনা বাদাম ও তিলের চাষ করলেও এখন রিতিমতো বরো ধানের আবাদ করছেন। সব হারানো এই মানুষটি ঘুরে দাড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন।
ধুনট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ছামিদুল ইসলাম জানান, যমুনা নদীর চরে প্রায় দুই হাজার হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের ফসল চাষাবাদ হয়েছে। পলি পড়া বালুচরের মাটি উর্বর হওয়ায় সব ফসলের বাম্পার ফলন হয়। এছাড়া অনেক অনাবাদি জমি ক্রমেই চাষযোগ্য হয়ে গড়ে উঠবে বলে জানান তিনি।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/161080