মশক নিয়ন্ত্রণে শনিবার থেকে ডিএনসিসির বিশেষ ক্যাম্পেইন শুরু

মশক নিয়ন্ত্রণে শনিবার থেকে ডিএনসিসির বিশেষ ক্যাম্পেইন শুরু

শহরের ক্রমবর্ধমান মশক নিয়ন্ত্রণ ও আসন্ন বর্ষা মৌসুমের আগেই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের অংশ হিসেবে আগামীকাল শনিবার থেকে ‘শনিবারের অঙ্গীকার—বাসাবাড়ি করি পরিষ্কার’ ক্যাম্পেইন শুরু করছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)।

আজ শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিষয়টি জানিয়ে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মুখপাত্র জোবায়ের হোসেন বলেন, ডিএনসিসির স্বাস্থ্য বিভাগ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সমন্বয়ে এবং কীটতত্ত্ববিদ ও ডিএনসিসির ঊর্ধ্বতন কীট নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এসব ক্যাম্পেইন পরিচালিত হবে।

ক্যাম্পেইনের আওতায় এডিস মশার সম্ভাব্য জন্মস্থল হিসেবে চিহ্নিত পরিত্যক্ত ও অব্যবহৃত পাত্র অপসারণ, ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার, র‍্যালি আয়োজন, লিফলেট বিতরণ, সচেতনতামূলক বার্তা প্রচার এবং গণযোগাযোগ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

এ বিষয়ে ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, প্রতি শনিবার বিশেষ মশক নিধন অভিযান পরিচালনার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে। সে অনুযায়ী, আমরা ডেঙ্গু প্রতিরোধে নগরবাসীকে নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে এবং এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল ধ্বংসে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের জন্য এ ক্যাম্পেইন শুরু করছি।

আইইডিসিআর এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক পরিচালিত জরিপ অনুযায়ী, ডিএনসিসির ২৫টি ওয়ার্ড এডিস মশার সূচকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। উল্লিখিত ২৫টি ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ডে মার্চ ২০২৬ থেকে মে ২০২৬ পর্যন্ত প্রতি শনিবার সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ‘শনিবারের অঙ্গীকার—বাসাবাড়ি করি পরিষ্কার’ শীর্ষক মোট ৫৩টি ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হবে।

বর্ষা মৌসুম এলেই ঢাকাসহ সারা দেশে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ বৃদ্ধি পায়। এডিস মশা মূলত বাসাবাড়ি ও আঙিনায় পড়ে থাকা বিভিন্ন ধরনের অব্যবহৃত বা পরিত্যক্ত পাত্রে জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে বংশবিস্তার করে। বাসাবাড়ি, অফিস, কর্মক্ষেত্র, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও উপাসনালয়ের আশপাশে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা এবং বিভিন্ন পরিত্যক্ত পাত্রে জমা পানি এডিস মশার অন্যতম প্রধান উৎপত্তিস্থল।

এবার সময়ের আগেই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে মশার এসব উৎপত্তিস্থল ধ্বংসে আগাম অভিযান শুরু করছে ডিএনসিসি বলে সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/161037