বগুড়া সদর আসনের উপনির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে পাঁচদফা দাবিতে সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত প্রার্থী 

বগুড়া সদর আসনের উপনির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে পাঁচদফা দাবিতে সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত প্রার্থী 

স্টাফ রিপোর্টার : বগুড়া-৬ সদর আসনের আসন্ন উপনির্বাচনকে প্রভাবিত করতে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করে প্রশাসনে রদবদল করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপনির্বাচনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল। এসময় তিনি আসন্ন উপনির্বাচন অবাধ, গ্রহণযোগ্য, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং শান্তিপূর্ণ করতে নির্বাচন কমিশন ও সরকারের কাছে পাঁচদফা দাবি তুলে ধরেন। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে বগুড়া প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এমন অভিযোগ করেন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার পরেই বর্তমান সরকার বগুড়ার প্রশাসনে নগ্নভাবে হস্তক্ষেপ শুরু করেছে। সংবিধান অনুযায়ী তপশিল ঘোষণার পর নির্বাচন কমিশনের আদেশে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি বা নতুন পদায়ন হওয়ার কথা। কিন্তু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পুলিশ সুপারকে বদলি করেছে। এছাড়াও এক অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকেও বদলি করা হয়েছে।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বদলির তৎপরতা চলছে। এতে, সরকার সংবিধানের সংশ্লিষ্ট বিধান প্রতিনিয়ত লঙ্ঘন করছে। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, আসন্ন উপনির্বাচন নির্বাচন কমিশনের অধীনে হচ্ছে না কি সরকারের মর্জি মতো হচ্ছে? এ ধরনের বদলির মাধ্যমে প্রশাসনের সকল স্তরে ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে দাবি করে তিনি আরও বলেন, তপশিল ঘোষণার সাথে সাথে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকায় সরকারের মন্ত্রী, উপমন্ত্রী বা তাদের সমপদমর্যাদার কোন ব্যক্তি কোন প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাইতে পারেন না।

কিন্তু গত ৮ মার্চ স্থানীয় সরকার ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বগুড়ার নাজ গার্ডেনে এক অনুষ্ঠানে তার দলীয় প্রার্থীর পক্ষে প্রকাশ্যে ভোট চান। জেলা রিটার্নিং অফিসারকে উল্লেখিত বিষয়গুলো মৌখিকভাবে জানালেও তিনি এখন পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। এসময় আসন্ন নির্বাচন কমিশন ও সরকারের কাছে পাঁচদফা দাবি তুলে ধরেন।

দাবিগুলো হলো- ১. অনতিবিলম্বে সকল প্রকার বদলি বাতিল করে প্রশাসনের ভীতি দূর করে নির্বাচনের স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করা।

২. বিগত ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে নিয়োগপ্রাপ্ত ভোট কর্মকর্তাদের মধ্যে অধিকাংশের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের সুস্পষ্ট অভিযোগ রয়েছে, তাদেরকে পুনরায় উপনির্বাচনে নিয়োগ না করে বিধি মোতাবেক নিরপেক্ষ নতুন সরকারি অফিসার নিয়োগ করা।

৩. অনতিবিলম্বে লেভেল প্লেইং ফিল্ড নিশ্চিতকরণ, ভয়ভীতি, কালো টাকার দৌরাত্ম, পেশি শক্তির ব্যবহার বন্ধ করা।

৪. প্রশাসনে সরকারের প্রভাব বিস্তার বন্ধ করা।

৫. নির্বাচনি আচরণ বিধি কোনো মহল লঙ্ঘন করলে তার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করাসহ গত নির্বাচনে নিয়োগকৃত পোলিং এজেন্টদের বাতিল করা।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- বগুড়া শহর জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা আলমগীর হোসাইন, সেক্রেটারি অধ্যাপক আ স ম আব্দুল মালেক, জেলা নায়েবে আমির আব্দুল হাকিম সরকার, নূর মোহাম্মদ আবু তাহের, জামায়াত নেতা হেদাইতুল ইসলাম, আব্দুস ছালাম তুহিন, শাহীন মিয়া, ইকবাল হোসেন প্রমুখ।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/160973