একাত্তরের এই দিনে চলচ্চিত্র প্রদর্শকরা ঢাকাসহ সারাদেশে অনির্দিষ্টকাল প্রেক্ষাগৃহ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেন
স্টাফ রিপোর্টার : আজ ১২ মার্চ। একাত্তর সালে চলমান অসহযোগ আন্দোলনের আজকের দিনে চলচ্চিত্র প্রদর্শকরা অসহযোগ আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে ঢাকাসহ সারা দেশে অনির্দিষ্টকাল প্রেক্ষাগৃহ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেন। তারা আওয়ামী লীগের সাহায্য তহবিলে ১৩ হাজার ২৫০ টাকা অনুদান দেন। অব্যাহত আন্দোলনে সরকারি-আধাসরকারি অফিসের কর্মচারীরা কর্মস্থল বর্জন করেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তালা, সরকারি ও বেসরকারি ভবন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বাসগৃহ ও যানবাহনে কালো পতাকা ওড়ানোর মাধ্যমে অব্যাহত থাকে।
একাত্তরের এইদিনে বগুড়া জেলখানা ভেঙ্গে ২৭ জন কয়েদী পালিয়ে যায়। কারারক্ষীদের গুলিতে ১ জন কয়েদী নিহত ও ১৫ জন আহত হয়। প্রাদেশিক পরিষদে আওয়ামী লীগ দলের নেতা ক্যাপ্টেন মনসুর আলী এক বিবৃতিতে বাংলাদেশের জন্য প্রেরিত ৩২ হাজার মেট্রিক টন খাদ্য বোঝাই মার্কিন জাহাজের গতি বদলে করাচী প্রেরণের ঘটনায় উৎকন্ঠা ও নিন্দা প্রকাশ করেন।
ময়মনসিংহে এক জনসভায় ন্যাপ প্রধান আবদুল হামিদ খান ভাসানী সাত কোটি বাঙালির মুক্তিসংগ্রামে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বের প্রতি তার সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, আমি জানি শেখ মুজিবুর রহমান কখনোই বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারে না। আপনারা শেখ মুজিবের ওপর সম্পূর্ণ ভরসা রাখুন।
জাতীয় পরিষদ সদস্য মোহাম্মদ জহির উদ্দিন পাকিস্তান সরকার প্রদত্ত খেতাব বর্জন করেন। রাওয়ালপিন্ডিতে এক সরকারি ঘোষণায় ২৩ মার্চ পাকিস্তান দিবসের নির্ধারিত সম্মিলিত সশস্ত্র বাহিনীর কুচকাওয়াজ, খেতাব বিতরণ ও অন্যান্য অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়।
লাহোরে এক সাংবাদিক সম্মেলনে গণঐক্য আন্দোলনের প্রধান এয়ার মার্শাল (অব.) আসগর খান বলেন, ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস, দোষ করা হল লাহোরে কিন্তু বুলেট বর্ষিত হল ঢাকায়। তিনি বলেন, পূর্বাঞ্চলের জনসাধারণ সমান অধিকার নিয়ে থাকতে চায়, পশ্চিমাঞ্চলের দাস হিসেবে নয়। পাকিস্তানকে রক্ষা করার জন্য একটি মাত্র পথ খোলা রয়েছে। আর তা হচ্ছে শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর।
লাহোরে ন্যাপের মহাসচিব সি.আর. আসলাম এক বিবৃতিতে বলেন, দেশের বর্তমান সঙ্কটের জন্য একচেটিয়া পুঁজিপতি ও আমলারাই দায়ী। ভূট্টোও এ ব্যাপারে নিজের দায়িত্ব এড়াতে পারেন না। ভূট্টোর হুমকিপূর্ণ মনোভাব ও ক্ষমতার লিপ্সাই রাজনৈতিক সঙ্কটকে আরো মারাত্মক করে তুলেছে।
ইত্তেফাকে ১২ মার্চের প্রথম পাতায় অষ্টম কলামে প্রকাশিত খবরের শিরোনাম ছিল ‘আঁতে ঘা’। এতে একসঙ্গে দুটি খবর জানানো হয়। ১৯৭১ সালের ১ মার্চ থেকে খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিলের নিউজপ্রিন্ট পশ্চিম পাকিস্তানে চালান বন্ধ রয়েছে। এ কারণে করাচি ‘ডন’সহ পশ্চিম পাকিস্তানের বেশিরভাগ সংবাদপত্রের কলেবর ১৪ পৃষ্ঠা থেকে হ্রাস পেয়ে চার পাতায় নেমে এসেছে। করাচি শিল্প ও বণিক সমিতির সভাপতি আহমদ আব্দুল্লাহ অবিলম্বে উত্তরাঞ্চলের মধ্যে স্বাভাবিক বাণিজ্যিক ব্যাংকিং সেবা পুনরায় চালুর ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানান। প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের কাছে পাঠানো তারবার্তায় তিনি বলেন, ‘পূর্ব পাকিস্তান থেকে লেনদেন সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পশ্চিম পাকিস্তানের ব্যবসায়ীরা অর্থনৈতিকভাবে দুর্দশার সম্মুখীন হয়েছেন। এ দুটি খবর তুলে ধরতে ‘আঁতে ঘা’ শিরোনাম ব্যবহার করে তীর্যকভাবে দেখেছে ইত্তেফাক।
১৯৭১ সালের ১২ মার্চ : কুর্মিটোলা মার্শাল ল’ অফিস ছাড়া কোথাও পাকিস্তানী পতাকা ওড়ে নাই।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/160837