মোহনগঞ্জে প্রধান শিক্ষকের কারসাজিতে সাড়ে ৫ লাখ টাকা গায়েবের অভিযোগ

মোহনগঞ্জে প্রধান শিক্ষকের কারসাজিতে সাড়ে ৫ লাখ টাকা গায়েবের অভিযোগ

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে মালামাল কেনাকাটায় ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির ঘটনা ঘটেছে।

ঠিকাদার ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের সমঝোতায় কোনো ধরনের মালামাল না কিনেই সাড়ে পাঁচ লাখ টাকার ভুয়া বিল ভাউচারে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এতে বিদ্যালয়টি বিভিন্ন উপকরণ থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

সম্প্রতি বিদ্যালয়ের নানা উপকরণ কেনাকাটার জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। তবে উপকরণ ক্রয় না করে ভুয়া বিল ভাউচার দেখিয়ে টাকা উত্তোলন করা হয়।

এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং ঠিকাদার ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন।

প্রধান শিক্ষক শেখ মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ স্বীকার করেছেন, উপকরণ না কিনেই নগদ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।

অন্যদিকে ঠিকাদার আল আমিন দাবি করেছেন, বিদ্যালয়ের ক্রয় কমিটির হাতে সকল উপকরণ বুঝিয়ে দিয়ে, প্রত্যয়ন নিয়ে টাকা উত্তোলন করেছেন।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর বিদ্যালয়ের বিভিন্ন ধরনের উপকরণ কেনাকাটার জন্য ৫ লাখ ৬৮ হাজার টাকার দরপত্র আহ্বান করা হয়। এতে সাইন্স ল্যাবের রাসায়নিক, বইপুস্তক, গবেষণার সরঞ্জামাদি, শিক্ষা উপকরণ, ক্রীড়া সামগ্রীসহ বিভিন্ন সরঞ্জামাদি সরবরাহ করার কথা ছিল। সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে ২২ ডিসেম্বর নেত্রকোনার মেসার্স ইউনিপ্যাক এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কার্যাদেশ পায়। প্রতিষ্ঠানটির সত্ত্বাধিকারী আল আমিন।

নিয়মানুযায়ী উপকরণ বুঝে নিতে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের সমন্বয়ে কয়েকটি উপ-কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে সমঝোতা করে ঠিকাদার উপকরণ না কিনে ভুয়া বিল ভাউচার জমা দেন। ক্রয় সংক্রান্ত উপ-কমিটির সদস্যদের কাছ থেকে উপকরণ বুঝে নেওয়ার স্বাক্ষর নেওয়া হয়। এরপর প্রধান শিক্ষক টাকার বিনিময়ে ঠিকাদারকে প্রত্যয়ন দেন। হিসাবরক্ষণ অফিস থেকে ১১ জানুয়ারি ভ্যাট-ট্যাক্স বাদে চার লাখ ৮০ হাজার ২৫৫ টাকা বিল উত্তোলন করা হয়। ফলে বিদ্যালয় এখনও উপকরণ বঞ্চিত।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক শিক্ষক জানান, নিয়মানুযায়ী ল্যাব উপকরণ, বইপুস্তকসহ নানা জিনিস ঠিকাদার সরবরাহ করবে। কিন্তু প্রধান শিক্ষক ঠিকাদারের সঙ্গে সমঝোতা করে কোনো উপকরণ না কিনে ভুয়া বিল দেখিয়ে টাকা উত্তোলন করেছেন। ক্রয় সংক্রান্ত উপ-কমিটিতেও প্রধান শিক্ষকের আস্থাভাজনদের রাখা হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের সাথে প্রতারণা হয়েছে। প্রধান শিক্ষক বলেছেন, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কিছু টাকা ব্যয় করা হয়েছে।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও ক্রয় সংক্রান্ত উপ-কমিটির সদস্য আজিজুল হক বলেন, কমিটির সদস্য হলেও এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। কোনো মালামালও বুঝে পাইনি। প্রধান শিক্ষকের কথা মতো স্বাক্ষর করেছি মাত্র।

ঠিকাদার আল আমিন বলেন, যথাযথ নিয়মে কমিটির সামনে সকল মালামাল বুঝিয়ে দিয়ে প্রত্যয়ন নিয়ে টাকা উত্তোলন করেছি। নিয়মের কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি।

প্রধান শিক্ষক শেখ মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, উপকরণ কেনার দরপত্র হলেও ঠিকাদার কোনো উপকরণ দেয়নি। আমরা নগদ টাকা উত্তোলন করেছি। খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কিছু ব্যয় হয়েছে। কোন উপকরণ এখনও কেনা হয়নি। পরে দরকার হলে কেনা হবে। বিষয়টি অনিয়ম কিনা জানি না।

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিভাগের ময়মনসিংহ বিভাগীয় উপপরিচালক মোহা. নাসির উদ্দীন জানান, দরপত্র অনুযায়ী ঠিকাদার বিদ্যালয়ে মালামাল সরবরাহ করবে। নগদ টাকা উত্তোলন নিয়মবহির্ভূত। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/160823