বগুড়ায় ঢালায়ের ৩০ মিনিট পর ধ্বসে গেল পৌরপার্কের নির্মানাধীন ব্যায়ামাগারের ছাদ

বগুড়ায় ঢালায়ের ৩০ মিনিট পর ধ্বসে গেল পৌরপার্কের নির্মানাধীন ব্যায়ামাগারের ছাদ

স্টাফ রিপোর্টার: বগুড়া শহরের অন্যতম বিনোদন কেন্দ্র পৌর এ্যাডওয়ার্ড পার্কে নির্মাণাধীন একটি আধুনিক ব্যায়ামাগারের ছাদ ঢালাইয়ের কিছু সময় পর ধসে পড়েছে। বিশ্ব ব্যাংকের স্থানীয় সরকার কোভিড-১৯ রিসপন্স এন্ড রিকভারী (এলজিসিআরআরপি) প্রকল্পের ১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পের ছাদ ধসে পড়ার ঘটনায় কাজের মান এবং নকশা নিয়ে জনমনে চরম ক্ষোভ ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার বিকেলে নির্মাণাধীন ব্যায়ামাগার ভবনের টপ রুফ ঢালাইয়ের কাজ চলছিল। ঢালাই কাজ শেষে হঠাৎ বিকট শব্দে ছাদের একাংশ ধসে নিচে পড়ে যায়। তবে সৌভাগ্যবশত এই ঘটনায় কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শুরু থেকেই এই প্রকল্পে নানা অনিয়ম পরিলক্ষিত হয়েছে। স্থাপনাটি পুকুরে হলেও মাটি পরীক্ষা করা হয়নি। এমনকি পুকুরে উচু উচু পিলার নির্মাণ করা হলেও পাইলিং করা হয়নি। পাইলিং না থাকায় পুরো ভবনটি এখন ঝুকিপূর্ণ। গতকাল (মঙ্গলবার) ধ্বসে পড়া ছাদ দেখতে গেলে দেখা যায় ৩০ ফুট উচু দুটি পিলারের উপর ৮ ইঞ্চি পুরুত্বের পাথর দিয়ে ঢালাই কাজ করা হলেও ছিলো না কোন বিম। এমনকি কনসল বীমও দেওয়া হয়নি ছাদে।

কর্মরত  শ্রমিকরা জানান,  ইতোমধ্যে দুটি ছাদ ঢালাই দেওয়া হয়েছে কোন ছাদেরই বীম করা হয়নি। আবার কনসল বীমও করা হয়নি। ফলে ৩০ ফুট উচু ঢালাইটি লোড বহন করতে পারেনি। ছাদে প্রায় ৮ মেট্রিক টন রড ব্যবহার করা হয়েছে। এতো বিশাল ভার বহন করার ক্ষমতা এই দুই পিলারের না থাকায় পিলার ভেঙ্গে ছাদ ধসে পড়েছে। তবে দেখা গেছে দক্ষিণের পিলারটি আগেই বিমের উপর ফাটল ছিলো। তা মেরামত করে ব্যবহার যোগ্য করা হয়েছিলো। শেষ পর্যন্ত তা টিকলো না।

এদিকে অভিযোগ উঠেছে, ভবনটির প্রকৌশল নকশায় বড় ধরনের ভুল ছিল। লোড বিয়ারিং ক্যাপাসিটি সঠিকভাবে গণনা না করেই ছাদের নকশা করা হয়েছে। ছাদ ধসে পড়ার পর সিমেন্ট,বালু ও রডের আনুপাতিক হার নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন উপস্থিত জনতা।

পৌরসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীদের সাথে যোগাযোগ করা হলে নির্বাহী প্রকৌশলী ওয়াহিদুর রহমান জানান কাজের মান নিয়মিত তদারকি করা হয়েছে। নকশা তাদের করা নয় ফলে এ বিষয়ে তারা কিছু বলতে পারবেন না। কেন এই ধসের ঘটনা ঘটেছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নকশায় ত্রুটি নাকি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি ছিল, তা দেখা হচ্ছে।

পৌরসভার সহকারি প্রকৌশলী শফি মাহমুদ অপ্রাসঙ্গিক ভাবে বলেন, পৌর পার্কে প্রচুর পাখি আছে। পাখির বিষ্ঠা পরিষ্কার করতে প্রচুর পরিমাণ পানি ব্যবহার করা হয়েছে। এতেই ছাদ ধ্বসে গেছে।

এদিকে, ১ কোটি ৪৫ লাখ টাকার এই প্রকল্পে এমন বিপর্যয়ে সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ। তারা বলছেন, টাকার এমন অপচয় কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অবিলম্বে দোষী ব্যক্তি ও দায়িত্বরত প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

বগুড়ার শিবগঞ্জের মের্সাস জয় ট্রেডার্স এই কাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছেন। চেষ্টা করেও তাদের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। বগুড়া পৌরসভার প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ পরিচালক রাজিয়া সুলতানা জানান, কিভাবে ধসে গেল তা দেখা হচ্ছে। কার ত্রুটি আছে খুঁজে বের করা হবে।

 

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/160816