জবি হিউম্যান রাইটস সোসাইটির ‘প্রজেক্ট স্মাইল’: পথশিশুরাই যেখানে প্রধান অতিথি
জবি প্রতিনিধি: পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে সুবিধাবঞ্চিত পথশিশু ও ছিন্নমূল মানুষদের নিয়ে ইফতার ও ঈদ উপহার বিতরণের এক মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) হিউম্যান রাইটস সোসাইটি। ‘প্রজেক্ট স্মাইল ২০২৬’-এর আওতায় এবার প্রায় ৫০ জন পথশিশু ও ছিন্নমূল মানুষের মাঝে এই ঈদ আনন্দ ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে এই কর্মসূচি সম্পন্ন হয়। এতে প্রায় ৪০ জন সুবিধাবঞ্চিত পথশিশুকে নতুন জামা বিতরণ সহ ৬০ জন গৃহহীন মানুষ নিয়ে ইফতার অনুষ্ঠান আয়োজন করে সংগ্রহটি।
আয়োজকদের মতে, ঈদ কেবল উদযাপনের উপলক্ষ নয়; এটি আনন্দ ভাগাভাগিরও একটি সামাজিক দায়িত্ব। এই বিশ্বাস থেকেই প্রতিবছরের মতো এবারও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সঙ্গে একত্রে বসে ইফতার করার পাশাপাশি তাদের হাতে ঈদের নতুন পোশাক তুলে দিয়েছে সংগঠনটির সদস্যরা। এই আয়োজনের সবচেয়ে ব্যতিক্রমী দিক ছিল অতিথির তালিকা। অনুষ্ঠানে কোনো প্রথাগত ‘ভিআইপি’ বা বিশেষ অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।
আয়োজকদের ভাষায়, “রাস্তায় বেড়ে ওঠা যে শিশুরা জীবনের কঠিন বাস্তবতার মাঝেও হাসিমুখে বেঁচে থাকার লড়াই চালিয়ে যায়, তারাই আমাদের কাছে প্রকৃত ভিআইপি। তারাই এই অনুষ্ঠানের সবচেয়ে সম্মানিত অতিথি। যখন পুরো শহর ঈদের কেনাকাটা ও উদযাপনের আনন্দে মুখর, তখন এই শিশুরা অনেকটাই লোকচক্ষুর আড়ালে থেকে যায়। আয়োজকরা জানান, এই ছোট্ট উদ্যোগের মাধ্যমে অবহেলিত শিশুদের কাছেও ঈদের আনন্দ পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে, যাতে তারাও অনুভব করতে পারে- ঈদ সবার জন্য।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত শিক্ষক ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অনুদানে এই মানবিক উদ্যোগটি সফল হয়েছে বলে জানিয়েছে জবি হিউম্যান রাইটস সোসাইটি। এই আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত সবার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।
সংগঠনটির সভাপতি জুনায়েদ মাসুদ বলেন, “পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে আমরা প্রতিবছর চেষ্টা করি অন্তত একটি দিন পথশিশুদের সঙ্গে বসে ইফতার করতে এবং তাদের মাঝে ঈদের উপহার সামগ্রী বিতরণ করতে। আমরা আয়োজন করি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ডোনেশনের দেয়া অর্থ দিয়ে৷ প্রথম রমজান থেকেই আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। আমাদের সংগঠনের সদস্যরা শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্রাউড ফান্ডিং করেছে, ক্লাস ক্যাম্পেইন করে যে অর্থ সংগ্রহ করেছে এবং আমাদের নিজেদের থেকে দেয়া কিছু ডোনেশনের সমন্বয়েই এই আয়োজনটি সম্পন্ন হয়েছে। সুবিধাবঞ্চিত পথশিশুদের মাঝে ঈদের নতুন জামা তুলে দিতে পেরে আমরা আনন্দ। শৈশব আনন্দ প্রতিটা শিশুর অধিকার। ঈদের নতুন জামা পাওয়া শৈশবের আনন্দের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। আমরা এই আনন্দটু ওদের প্রতিবছর দিতে চাই।”
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/160783