মৌলভীবাজারে নারীকে অপহরণের চেষ্টা, গ্রেপ্তার ৩

মৌলভীবাজারে নারীকে অপহরণের চেষ্টা, গ্রেপ্তার ৩

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে এক নারীকে অপহরণের চেষ্টার ঘটনায় জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় অপহরণের কাজে ব্যবহৃত একটি সাদা রঙের প্রাইভেটকারও জব্দ করা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার দিবাগত রাতে (১০ মার্চ) সিলেট মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়।

এই ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার শ্রীপুর নাছিরাবাদ গ্রামের মতছির আলীর ছেলে মো. জাকির মিয়া (২৬), মৌলভীবাজার সদর উপজেলার সৈয়ারপুর এলাকার আব্দুর রহমানের ছেলে মো. কাওছার আহমদ (৩৪) এবং সদর উপজেলার গুলবাগ (বেরিরচর) এলাকার নুর মিয়ার ছেলে জসিম মিয়া (৩৬)।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এর আগে গত ৮ মার্চ সকাল আনুমানিক ৬টা ৪০ মিনিটে মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার ৫নম্বর কমলগঞ্জ ইউনিয়নের দক্ষিণ বালিগাঁও গ্রামের বাসিন্দা বাপ্পি এরিকের মেয়ে ও মো. মাসুদ পারভেজের স্ত্রী ফাতেমা পারভেজ নিশি (২৯) শ্রীমঙ্গল যাওয়ার জন্য কমলগঞ্জের বটতলা বাজারে অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় একটি সাদা রঙের প্রাইভেটকার (ঢাকা মেট্রো-ক-০৩-৯৪৯৪) এসে তাকে শ্রীমঙ্গল যাবেন কিনা জিজ্ঞাসা করে। তিনি যেতে অস্বীকৃতি জানালে গাড়িটি বারবার সামনে-পেছনে ঘোরাফেরা করতে থাকে। পরে তিনি বাড়ির দিকে হাঁটা শুরু করলে গাড়িটি তাকে অনুসরণ করে তার বাড়ির রাস্তায় ঢুকে পড়ে। একপর্যায়ে গাড়ির ভেতরে থাকা ব্যক্তিদের একজন নেমে তার মুখ চেপে ধরে ১০-১২ হাত টেনে নিয়ে জোরপূর্বক গাড়িতে তুলে অপহরণের চেষ্টা করে। এ সময় তিনি ধস্তাধস্তি করে তাদের হাত থেকে ছুটে পালিয়ে নিরাপদে চলে যেতে সক্ষম হন।

এ ঘটনায় ফাতেমা পারভেজ নিশির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কমলগঞ্জ থানার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা রুজু করা হয়।

ঘটনার পর পুলিশের একাধিক টিম সিসি ক্যামরার ফুটেজ, তথ্যপ্রযুক্তি এবং ম্যানুয়াল সোর্সিংয়ের মাধ্যমে অভিযানের মাধ্যমে গত ১০ মার্চ সিলেট মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সিলেট মহানগরীর সোবহানীঘাট এলাকার আত্মা কমিউনিটি সেন্টারের ভেতর থেকে অপহরণের কাজে ব্যবহৃত সাদা রঙের প্রাইভেটকারটি উদ্ধার করা হয়।

কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আউয়াল বলেন, ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এই চক্রের সবাই নানা অপরাধের সাথে জড়িত। রমজান মাসে ভোর বেলা ফাঁকা রাস্তায় মেয়েটিকে একা পেয়ে তারা ধর্ষণের টার্গেট করে অপহরণের চেষ্টা চালিয়েছিল বলে জানা গেছে। গ্রেপ্তারকৃতরা বিভিন্ন সস্তা হোটেলে রাত কাটাতো আর এই গাড়িটি ব্যবহার করেই সিলেট অঞ্চলে ঘুরে নানান অপরাধ করে আসছিল। তারা মাদক, চুরি, ডাকতি এবং ছিনতাইয়ের সাথে জড়িত এসব তথ্য পাওয়া যায়। গ্রেপ্তারকৃত জাকির, কাওসার এবং জসিমের বিরুদ্ধে চুরি এবং মাদক আইনে একাধিক মামলার তথ্য পাওয়া গিয়েছে। এছাড়া তাদের দলের পলাতক জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে ডাকাতিসহ ৩টি মামলা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, পলাতক আসামি গ্রেপ্তার এবং মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/160763