আমরা হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌবাহিনীর অপেক্ষায় আছি : আইআরজিসি

আমরা হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌবাহিনীর অপেক্ষায় আছি : আইআরজিসি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌবাহিনীকে মোকাবিলা করার জন্য অপেক্ষা করছে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। আইআরজিসির মুখপাত্র মেজর জেনারেল আলী মোহাম্মদ নাইনি এ তথ্য জানিয়েছেন।

আজ মঙ্গলবার ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সাংবাদমাধ্যমেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মেজর জেনারেল নাইনি বলেছেন, ইরান প্রজাতন্ত্রের প্রতিরক্ষা বাহিনী হরমুজ প্রণালি এলাকায় মার্কিন নৌবাহিনী এবং বিমানবাহী রণতরী গেরাল্ড ফোর্টের জন্য অপেক্ষা করছে।

গতকাল সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালির জলপথ জাহাজ চলাচলের জন্য ‘নিরাপদ থাকবে’। ইরান যদি হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে, তাহলে বর্তমানের চেয়ে ইরানে ২০ গুণ বেশি হামলা হবে বলে হুমকিও দিয়েছেন তিনি। এর আগে তিনি বলেছিলেন, তার প্রশাসন হরমুজ প্রণালি দখলের চেষ্টা করার পরিকল্পনা করছে এবং ‘প্রয়োজনে’ ট্যাঙ্কার জাহাজগুলোকে নিরাপত্তা প্রহরা (এসকোর্ট) দেবে মার্কিন নৌবাহিনী।

মঙ্গলবারের সাক্ষাৎকারে মেজর জেনারেল নাইনি বলেন, যতদিন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে আমাদের যুদ্ধ শেষ না হচ্ছে, ততদিন হরমুজ প্রণালি দিয়ে এক লিটার তেলও পশ্চিমা বিশ্বে যাবে না। আরব সাগর এবং পারস্য উপসাগরকে যুক্ত করা হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ রুট। প্রতিদিন বিশ্বে যত তেল ও তরল গ্যাসবাহী জাহাজ চলাচল করে, সেসবের ২০ শতাংশই এই রুট ব্যবহার করে।

হরমুজ প্রণালিকে ‘জ্বালানির বৈশ্বিক দরজা’-ও বলা হয়, কারণ মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো এই পথ ব্যবহার করেই তাদের তেল রপ্তানি করে। হরমুজ না থাকলে মধ্যপ্রাচ্যের তেল সহজে পশ্চিমা বিশ্বে সরবরাহ করা যেতো না। গত ২৮ তারিখ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজ প্রণালি চলাচলকারী বিভিন্ন জাহাজের ক্রুদের সতর্কবার্তা দেওয়া শুরু করে আইআরজিসি। কয়েকটি জাহাজে হামলাও চালানো হয়। ব্রিটিশ সংস্থা ইউকে মেরিটাইম অপারেশনের তথ্য অনুসারে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত হরমুজ প্রণালীতে ১০টি তেলবাহী জাহাজে হামলা হয়েছে। সূত্র : সিএনএন

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/160599