চুয়াডাঙ্গায় জামায়াত-বিএনপির সংঘর্ষে আহত জামায়াত নেতার মৃত্যু
চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে বিএনপি ও তার সহযোগী অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে গুরুতর আহত জামায়াতে ইসলামীর নেতা মফিজুর রহমান চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। সংঘর্ষে নিহত তার বড় ভাই জামায়াত কর্মী হাফিজুর রহমানের মৃত্যুর ১০ দিন পর তিনি মারা গেলেন।
আজ মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুর ১২টার দিকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত মফিজুর রহমান জীবননগর উপজেলার বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির ছিলেন।
তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জীবননগর পৌর জামায়াতের পৌর যুব বিভাগের সভাপতি ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আমির আরিফুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার। তিনি বলেন, আজ মঙ্গলবার দুপর ১২টার দিকে ঢাকায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাতে জীবননগর উপজেলার হাসাদহ বাজারে পূর্ব বিরোধের জেরে বিএনপি ও তার সহযোগী অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ছয়জন আহত হন। আহতদের মধ্যে বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মফিজুর রহমান এবং তার ভাই জামায়াতকর্মী হাফিজুর রহমান গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয়রা তাদের প্রথমে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং সেখান থেকে যশোর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে ঢাকায় নেওয়ার পথে হাফিজুর রহমান মারা যান। এরপর গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকা মফিজুর রহমান টানা ১০ দিন চিকিৎসা নেওয়ার পর মঙ্গলবার দুপুরে মারা যান।
এদিকে জামায়াতকর্মী ও স্বর্ণ ব্যবসায়ী হাফিজুর রহমান হত্যার ঘটনায় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের ৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৮ থেকে ৯ জনকে আসামি করে জীবননগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলা দায়েরের পর জীবননগর থানা পুলিশ, জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিট যৌথ অভিযানে ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মেহেদী হাসান, তার বাবা বিএনপির কর্মী জসিম উদ্দিন এবং হাসাদহ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুস সালামকে গ্রেপ্তার করেছে।
জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান শেখ বলেন, চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ দুপুরে মফিজুর রহমান মারা গেছেন বলে জানতে পেরেছি। তার বড় ভাইয়ের হত্যা মামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।