তেহরানে পারমাণবিক গবেষণাগারে ইসরায়েলের বিমান হামলা

তেহরানে পারমাণবিক গবেষণাগারে ইসরায়েলের বিমান হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরানের রাজধানী তেহরানে নতুন করে তীব্র বিমান হামলা চালানো হয়েছে। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, পারমাণবিক গবেষণাগারসহ শহরের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাকে লক্ষ্য করে এসব হামলা চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে আবাসিক এলাকাতেও হামলায় বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতির কারণে শহরজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সংকটও দেখা দিয়েছে।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, গত রাতে ইরানের রাজধানী তেহরানে হামলার সময় ইসরায়েল পারমাণবিক গবেষণাগারগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে বলে ইসরায়েলের টেলিভিশন চ্যানেল ১২-এর উদ্ধৃতিতে বলা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনও ইরানের পক্ষ থেকে কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি। আল জাজিরাও স্বাধীনভাবে এই তথ্য যাচাই করতে পারেনি। এছাড়া গত রাতে তেহরানের বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে ব্যাপক বিমান হামলার ঘটনা ঘটেছে। শহরের বিভিন্ন স্থানে একাধিক শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এসব হামলার একটিতে অন্তত ৪০ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন। হামলাগুলো সামরিক সদর দপ্তরের বদলে আবাসিক এলাকায় আঘাত হেনেছে বলে জানা গেছে।

বর্তমানে তেহরানে বৃষ্টি হচ্ছে। ইরানের রেড ক্রিসেন্ট জনগণকে বৃষ্টিতে না ভেজার পরামর্শ দিয়েছে। তাদের মতে, তেল স্থাপনায় হামলার পর শহরের বাতাস দূষিত হয়ে গেছে এবং সেই দূষিত বাতাসের কারণে বৃষ্টির পানিও দূষিত হতে পারে। এদিকে তেহরানের বাইরে অন্যান্য শহরেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। কোথাও কোথাও বিদ্যুৎ সংকট দেখা দিয়েছে। আর এটি চলমান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। কিছু দেশ উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করছে বলে জানা গেলেও বাস্তবে পরিস্থিতি এখনও সেই দিকে এগোচ্ছে বলে মনে হচ্ছে না।

ইরানের মেহর সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, তেহরানের একটি আবাসিক ভবনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ধ্বংসস্তূপ থেকে এক বছর বয়সী এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। টেলিগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিওতে দেখা যায়, জরুরি উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপ খুঁড়ে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করছেন। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তারা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণস্থল খুঁজে বের করার অভিযান চালিয়ে যাবে। এক্সে দেয়া এক পোস্টে সেন্টকম বলেছে, ‘আমরা যতক্ষণ এগুলো খুঁজে পাব, ততক্ষণ সেগুলো ধ্বংস করা হবে।’

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/160578