ঠাকুরগাঁওয়ে মুকুলে ছেয়ে গেছে আম গাছ ভাল ফলনের সম্ভাবনা
ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ে গাছে গাছে আমের মুকুল ভরা ডালে নতুন পাতার হাতছানি। মৌ মৌ ঘ্রাণে মাতোয়ারা মৌমাছির দল। ভাষায় যথাযথ ছবি ফোটানো না গেলেও আম গাছের এমন মুকুল ফোটা দৃশ্য জেলাজুড়ে যেন হলুদ সবুজের মিলনমেলা। জানা যায়, উত্তরের জেলাগুলোর মধ্যে ঠাকুরগাঁওয়েও আমের ভাল ফলন হয়।
জেলায় গোপালভোগ, ফজলি, ল্যাংড়া, খিরসা, আ¤্রপালি, অরুনা, মল্লিকা, সুবর্নরেখা, নিলাম্বরী, কালীভোগ, মিশ্রিদানা, কাঁচামিঠা, হাড়িভাঙ্গা, আলফানসো, বারোমাসি, তোতাপূরী, কারাবাউ, কেঊই সাউই, গোপাল খাস, কেন্ট, সূর্যপূরী, পাহুতান, ত্রিফলা, ছাতাপরা, গুঠলি, লখনা, আদাইরা, কলাবতী ইত্যাদি জাতের আম পাওয়া যায়।
জেলার বালিয়াডাঙ্গী, পীরগঞ্জ, রানীশংকৈল এলাকায় ব্যাপক আম বাগান গড়ে উঠেছে। ইতোমধ্যেই চাষিরা বাগানের যতেœ পাশাপাশি ছত্রাকনাশক স্প্রে শুরু করেছেন। বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবার বাম্পার ফলনের আশা করছেন ঠাকুরগাঁওয়ের আমচাষি ও ব্যবসায়ীরা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর জেলায় আম আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ২৩৩ হেক্টর। এরমধ্যে বাগানের সংখ্যা ৩ হাজার ২৩৫ হেক্টর ও বসতবাড়ির আম গাছের সংখ্যা ১ হাজার ৮৪৪ হেক্টর জমি। আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৪৭ হাজার ৭শ’ মেট্রিক টন। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ফলন হবে বলে ধারণা কৃষি বিভাগের।
সদর উপজেলার পুরাতন ঠাকুরগাঁও এলাকার আম বাগান মালিক মোছা. রাবু বেগম জানান, একবিঘা (৫০ শতক) জমিতে অন্যান্য ফসল উৎপাদন করে যে লাভ হয়, আম বাগান করে তার চাইতে কয়েকগুণ লাভবান হওয়া যায়। তার মতো অনেকে বাণিজ্যিকভাবে আম্রপালি জাতের বাগান করার দিকে ঝুঁকে পড়ছে। এসব গাছ লাগানোর ২/৩ বছরের মধ্যেই আম পাওয়া যায়। লাগাতার ফল দেয় ১০/১২ বছর। ফলনও হয় ব্যাপক।
পৌর শহরের মুন্সিরহাট এলাকার বাগান ব্যবসায়ী মোস্তাক জানান, গত কয়েক বছরের তুলনায় এ বছর ব্যাপক মুকুল দেখা যাচ্ছে। আশা করা যায় এবার আমের ব্যাপক ফলন হবে। শিলাবৃষ্টি বা ঝড় না হলে প্রচুর পরিমাণে আমের ফলন পাওয়া যাবে।
ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. মাজেদুল ইসলাম জানান, জেলায় আমের ভাল ফলন হয়। আম চাষিদের কৃষি বিভাগ থেকে যাবতীয় পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে। জেলার সূর্যপূরী আম সারাদেশে সুনাম কুড়িয়েছে।কৃষকদের পোকা দমনে যাবতীয় প্রস্তুতিমূলক সেবা ও পরামর্শ প্রদান করা হয়। সূর্যপুরী আমের আকার দেখতে ছোট হলেও স্বাদে গন্ধে অতুলনীয়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং বড় ধরণের প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা না দিলে এ বছরও আমের বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করা যায়।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/160085