পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মায়া ও মামুসার পরিচয় হয় জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘উইচ্যাট’-এর মাধ্যমে। মাত্র এক মাস আগে তাঁদের পরিচয় হলেও বন্ধুত্ব খুব দ্রুতই গভীর প্রেমে রূপ নেয়। অনলাইনে ভিডিও কলে দীর্ঘ আলাপচারিতার পর মামুসা সিদ্ধান্ত নেন সরাসরি বাংলাদেশে আসার।
এক মাসের ভিসা নিয়ে তিনি টাঙ্গাইলে মায়ার বাড়িতে উপস্থিত হন। এরপর দুই পরিবারের সম্মতিতে গত ২১শে ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় মুসলিম রীতি অনুযায়ী তাঁদের ধুমধাম করে বিয়ে সম্পন্ন হয়। ভিনদেশি জামাই দেখতে কনের বাড়িতে এখন কৌতূহলী প্রতিবেশীদের উপচে পড়া ভিড়।মায়ার বাবা আ: মালেক জানান, শুরুতে ভিনদেশি পাত্রের কাছে মেয়ে বিয়ে দিতে কিছুটা সংশয়ে ছিলেন তাঁরা।
তবে মেয়ের অনড় অবস্থানের কারণে এবং মামুসার আন্তরিকতা দেখে তাঁরা রাজি হন। ভাষার দূরত্ব ঘোচাতে তাঁরা অভিনব পদ্ধতি বেছে নিয়েছেন—গুগল ট্রান্সলেটের মাধ্যমে চলছে শশুরবাড়ি আর জামাইয়ের মনের ভাব আদান-প্রদান। মামুসা ইতিমধ্যে বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও খাবারের প্রতি বেশ আগ্রহ দেখিয়েছেন, যা স্থানীয়দের মন জয় করেছে।
লোকেরপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. শহীদুল হক মিলন জানান, বিয়ের পুরো প্রক্রিয়াটি আইনি নিয়ম মেনেই সম্পন্ন করা হয়েছে। জংজিয়া মামুসা বর্তমানে এক মাসের ভিসায় শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান করছেন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গুছিয়ে নেওয়ার পর তিনি মায়াকে নিয়ে চীনে পাড়ি জমাবেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে এমন ‘উইচ্যাট প্রেম’ সফল হওয়ায় অনেকে যেমন অবাক হচ্ছেন, তেমনি নবদম্পতির সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য দোয়াও করছেন অনেকে।