বিশ্বব্যাপী পারমাণবিক হামলার শঙ্কা বাড়ছে: রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী

বিশ্বব্যাপী পারমাণবিক হামলার শঙ্কা বাড়ছে: রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্য সংকটে বৈশ্বিক পারমাণবিক নিরাপত্তার ঝুঁকি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ব্রুনেই দারুসসালামের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে বৈঠকের পর এক সংবাদ সম্মেলনে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এমন আশঙ্কা করেছেন।

রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ সতর্ক করে বলেছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক পারমাণবিক নিরাপত্তার হুমকি আগের চেয়ে অনেক বেশি ঘনীভূত এবং ক্রমবর্ধমান হচ্ছে।

তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বর্তমান সামরিক কৌশল ইরানকে শেষ পর্যন্ত পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে বাধ্য করতে পারে।

ল্যাভরভ উল্লেখ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল ইরান আক্রমণের প্রধান কারণ হিসেবে দেশটির পারমাণবিক বোমা তৈরির প্রচেষ্টাকে সামনে এনেছে।

কিন্তু রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী একটি গুরুত্বপূর্ণ অসঙ্গতির দিকে নির্দেশ করেন। তিনি বলেন, গত বছরের জুনে ১২ দিনের ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের পর ওয়াশিংটন ঘোষণা করেছিল যে, ইরানের পারমাণবিক বোমার সব উপাদান এবং কাজের সক্ষমতা ধ্বংস করা হয়েছে।

তা সত্ত্বেও, বর্তমানে ইরানকে তার নিজস্ব ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার থেকে বঞ্চিত করার যে চেষ্টা চলছে, তাকে ল্যাভরভ অযৌক্তিক বলে মনে করেন।

ল্যাভরভ যুক্তি দিয়েছেন যে, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ একটি দেশের শান্তিপূর্ণ অধিকার, যা বিশ্বের অন্যান্য রাষ্ট্রগুলোও ভোগ করে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যদি এই অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যায়, তবে ইরানে এমন শক্তিশালী আন্দোলন গড়ে উঠতে পারে যারা দেশটিকে পারমাণবিক বোমা তৈরিতে প্ররোচিত করবে।

তিনি এর পেছনে একটি তিক্ত সত্য তুলে ধরে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সাধারণত সেই সব দেশ আক্রমণ করে না যাদের কাছে পারমাণবিক বোমা রয়েছে। তাই মার্কিন হামলা এড়াতে ইরান শেষ পর্যন্ত সেই পথই বেছে নিতে পারে যা যুক্তরাষ্ট্র এড়াতে চায়।

ল্যাভরভের মতে, বর্তমান সংঘাত কেবল মধ্যপ্রাচ্যের সীমানায় সীমাবদ্ধ নেই। এটি বিশ্বব্যাপী পারমাণবিক নিরাপত্তার যে স্থিতিশীলতা ছিল, তাকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলে দিয়েছে। ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচিকে লক্ষ্যবস্তু করায় পুরো অঞ্চল এখন একটি পারমাণবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কার মধ্যে রয়েছে।

সূত্র: তাস

 

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/159826