নড়িয়ায় দুটি শট রাইফেলসহ সুরেশ্বর দরবার শরীফের পীর গ্রেপ্তার
শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় সুরেশ্বর দরবার শরীফের খাদেম জয়নাল সরকার হত্যা মামলার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় ওই দরবারের পীর তোহিদুল হোসেন শাহীন নূরীকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তারের তথ্য জানিয়েছে পুলিশ।
আজ বুধবার (৪ মার্চ) ভোরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পরিচালিত এক অভিযানে সুরেশ্বর দরবার শরীফ এলাকার নিজ বাসভবন থেকে তাকে আটক করা হয়। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহার হওয়া সন্দেহে বিভিন্ন আলামত জব্দের কথা জানিয়েছে পুলিশ।
নড়িয়া থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, খাদেম জয়নাল সরকার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আগে গ্রেপ্তার হওয়া রবিন শেখ (৩২) নামে এক আসামির দেওয়া তথ্য, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং প্রযুক্তিগত তদন্তের ভিত্তিতে শাহীন নূরীর সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়। পরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার শাহীন নূরীর কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি চাকু, শটগানের ১৩৩টি খালি কার্তুজ, ছয়টি হার্ডড্রাইভ, একটি এসএসডি, চারটি ওয়াকিটকি সেট, একটি ডিভিআর, তিনটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, চারটি বাটন মোবাইল ফোন এবং দুটি শট রাইফেল উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া শটগানের বিভিন্ন অংশ ও একটি বক্স জব্দ করা হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নিহত জয়নাল সরকারের মেয়ে ইভা আক্তার গত ২৫ অক্টোবর নড়িয়া থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার দিন বিকেলে জয়নাল সরকার বাড়ি থেকে বের হয়ে রাতে আর ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরদিন ঘড়িসার ইউনিয়নের আটপাড়া এলাকার একটি পুকুরে প্লাস্টিকের বস্তাবন্দী মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দিলে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে স্বজনরা মরদেহটি শনাক্ত করেন।
নড়িয়া থানার ওসি বাহার মিয়া বলেন, তদন্তে শাহীন নূরীর জড়িত থাকার প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে। তার বাসা থেকে গাড়িতে করে মরদেহ ঘটনাস্থলে ফেলে আসা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গ্রেপ্তার শাহীন নূরীকে আদালতে পাঠানো হবে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আবেদন করা হবে। হত্যাকাণ্ডে প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে।