হরমুজ প্রণালী বন্ধের জেরে ইউরোপে গ্যাসের দাম বেড়ে দ্বিগুণেরও বেশি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরানে ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জেরে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ইউরোপের বাজারে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম ১০০ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
২৭ ফেব্রুয়ারি যেখানে গ্যাসের দাম প্রতি মেগাওয়াট-ঘণ্টায় ৩১.৯৫ ইউরো ছিল, সেখানে বর্তমান পরিস্থিতিতে তা লাফিয়ে ৬৫.৫০ ইউরোতে পৌঁছেছে। মার্কিন ও ইসরাইলি বাহিনীর ইরান আক্রমণের পর পারস্য উপসাগরীয় এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজ চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিশ্বের মোট এলএনজি রফতানির প্রায় ২০ শতাংশই হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়, যার বেশিরভাগই কাতারের সরবরাহ। সম্প্রতি কাতারের রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটি এবং মেসাইদ শিল্পাঞ্চলে ইরানি ড্রোন হামলার পর নিরাপত্তা শঙ্কায় কাতার এনার্জি তাদের এলএনজি উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। এই উৎপাদন বন্ধের ঘোষণা এবং ট্যাঙ্কার চলাচলে বিঘ্ন ঘটার খবর ইউরোপের বাজারকে মারাত্মকভাবে অস্থিতিশীল করে তুলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২২ সালে ইউক্রেন আক্রমণের পর এটিই বিশ্ব গ্যাস বাজারে সবচেয়ে বড় ধাক্কা। কাতার এনার্জি তাদের ক্রেতাদের জন্য ‘ফোর্স মাজিউর’ বা অনিবার্য পরিস্থিতি ঘোষণা করায় যারা দীর্ঘমেয়াদী চুক্তিতে গ্যাস কিনতেন, তারা এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। এতে বিকল্প উৎস হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার গ্যাসের জন্য এশিয়া ও ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা শুরু হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে গ্যাসের মজুদ মাত্র ৩০ শতাংশের কাছাকাছি রয়েছে, যা গত বছরের এই সময়ের তুলনায় অনেক কম। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে ইইউ-এর ‘ন্যাচারাল গ্যাস কোঅর্ডিনেশন গ্রুপ’ আগামী ৪ মার্চ জরুরি বৈঠকে বসতে যাচ্ছে। সেখানে মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনার প্রভাব এবং সম্ভাব্য মোকাবিলা পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/159763