রংপুরের তারাগঞ্জে মুড়ি হাতে ভেজেই চলে শতাধিক পরিবার

রংপুরের তারাগঞ্জে মুড়ি হাতে ভেজেই চলে শতাধিক পরিবার

তারাগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি: মুড়ি বাঙালির খাদ্য তালিকায় প্রাচীন মুখরোচক খাবার। রমজান মাসে বাঙালির ইফতারিতে মুড়ি যেন এক অত্যাবশকীয় উপাদান। শুধু রমজান নয় সকালের নাস্তা কিংবা বিকেলের আড্ডায় মুড়ির কোন জুড়ি নেই।

আর সেই মুড়ি যদি হয় হাতে ভাজা তাহলে তো কথায় নেই। রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে মাত্র ৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত পশ্চিম শ্যামগঞ্জ যা হাতে ভাজা মুড়ির গ্রাম হিসেবে পরিচিত। এ গ্রামে শতাধিক পরিবার বাণিজ্যিকভাবে মুড়ি বিক্রির পেশায় যুক্ত।

গতকাল সোমবার সরেজমিনে গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, মুড়ি ভাজার কাজে নিয়োজিত নারীরা কেউ উঠানে মুড়ির ধান শুকাচ্ছেন, কেউ মুড়ির চাল বস্তায় ভরছেন। আবার নিজেদের বাড়িতে মুড়ি ভাজার কাজ করছেন অনেকে। রমজান মাসে মুড়ি চাহিদা বেশি থাকায় গ্রামের সবার ব্যস্ততা বেড়েছে কয়েকগুণ।

গ্রামের বিশ্বনাথের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তার স্ত্রী সন্ধ্যা রানী মুড়ি ভাজছেন, মেয়ে আরতি পলিথিন বিছিয়ে মুড়ির চালে লবণের পানি মিশিয়ে প্রস্তুত করছেন চাল। অন্যদিকে তার মা বেমলা রানী একটি চুলায় লোহার কড়াই বসিয়ে বালু গরম করছেন।

সন্তোষের স্ত্রী সাধনা রানী জানান, এক কেজি চালে ৯০০ গ্রাম মুড়ি হয়। রাত ৩টায় উঠে বেলা ১১টা পর্যন্ত মুড়ি ভাজার কাজ করেন তারা। ওই সময়ের মধ্যে এক থেকে দেড় মণ চালের মুড়ি ভাজা যায়। সপ্তাহের প্রতিদিনই চলে মুড়ি ভাজার কাজ। তবে এসব মুড়ি সোমবার ও শুক্রবার তারাগঞ্জ হাটে গিয়ে বিক্রি করেন তারা।

একই গ্রামের সাবিত্র মোহন্ত জানায়, মুড়ি ভেজেই চলে গ্রামের শতাধিক পরিবারের সংসার। এছাড়াও করুনা রায় বলেন, হাতে ভাজা মুড়ির চাহিদা সারাবছর থাকলেও রমজান মাসে এর চাহিদা অনেক বেড়ে যায়। ফলে এ মাসে লাভ হয়। কিন্তু অন্য মাসে চাহিদা তেমন না থাকায় অনেকেই মুড়ি ভাজার কাজ ছেড়ে দিয়েছেন।

তারাগঞ্জ বাজারের মুড়ি ব্যবসায়ী ডালিম মোহন্ত বলেন, হাতে ভাজা মুড়ির চাহিদা অনেক। ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় এসব মুড়ি পাঠানো হয়। দেশি হাতে ভাজা মুড়ি তিন হাজার থেকে ৩ হাজার ২শ’ টাকা পর্যন্ত পাইকারি দামে কিনে নেন তারা।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/159702