দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে সড়কে লোহার পণ্য পরিবহণ, মারাত্মক ঝুঁকিতে পথচারী

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে সড়কে লোহার পণ্য পরিবহণ, মারাত্মক ঝুঁকিতে পথচারী

ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের ফুলবাড়িতে সড়কে লোহার পণ্য পরিবহণে মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছেন পথচারীরা। দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার ফুলবাড়ীহাট, মাদিলাহাট, আটপুকুরহাট, বারাইহাট, পুকুরিহাট, খয়েরবাড়ীহাট, মেলাবাড়ীহাট, আমবাড়ীহাট, লক্ষ্মীপুর হাট, আমডুঙ্গিহাট পাশের বিরামপুর, নবাবগঞ্জ ও পার্বতীপুরের হাটের সংখ্যা ৫০-৬০টি।

প্রতিদিন এসব হাট থেকে ঢেউটিন, অ্যাঙ্গেল, লোহার বার, রড, স্টিলের সিট, স্টিলের পাতি, লোহার দরজা-জানালা কেনাবেচা হয়। এছাড়া নানা ওয়ার্কশপে এসব পণ্য তৈরির পর অরক্ষিতভাবেই ভ্যান বা ইঞ্জিনচালিত যানবাহনে নানা গন্তব্যে পরিবহণ করা হয়। বেশির ভাগ লোহার সরঞ্জামের জায়গা যানবাহনে হয় না, ফলে এমনভাবে বাইরে ছড়িয়ে থাকে যে প্রতিনিয়ত ছোট-বড় দুর্ঘটনার কারণ হয়।

দুর্ঘটনার শিকার হয়েছিলেন ফুলবাড়ী মহিলা ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক (ইংরেজি) খায়রুল আনাম আবেশ। সম্প্রতি তিনি দুর্ঘটনার অভিজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, মোটরসাইকেলে বাজারের ভিতর যাচ্ছিলাম, একজন বিপরীত দিক থেকে ভ্যানে করে জানালার গ্রিল নিয়ে আসছিল। প্রচন্ড জ্যামে সেই জানালার গ্রিলের ধাক্কায় মোটরসাইকেলসহ পড়ে যাই। তবে অল্পের জন্য বেঁচে গেছি।

এ দুজনের মতো ভাগ্য ভালো নয় উপজেলার দৌলতপুরের অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মো. আকবর আলীর(৭০)। ২০১৬ সালের জুলাই মাসে হাট থেকে ফিরছিলেন আকবর আলী। বিপরীত দিক থেকে ভ্যানে করে ঢেউটিন নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন এক ব্যক্তি। ভ্যান কাছে আসতেই চিৎকার করে ওঠেন আকবর আলী। নতুন টিনের আঘাতে ডান পা ক্ষতবিক্ষত হয়ে পড়ে। শেষে তার ডান পা কেটে ফেলতে হয়।

ফুলবাড়ী বাজারের টিন-অ্যাঙ্গেল বিক্রি করেন মেহের এন্টারপ্রাইজের ফিরোজ হোসেন, শাহিন ট্রেডার্সের শাহিনুর রহমান, মেসার্স সিফাত এন্টারপ্রাইজের রাজু হোসেন। তাদের দাবি, ক্রেতাদের এসব পণ্য পরিবহণের সময় বস্তা বা লাল কাপড় দিয়ে মুড়িয়ে নিতে বলা হয়। এতে করে দূর থেকে পথচারীরা দেখতে পারবেন। এসব পরামর্শ কেউ শোনেনা।

ফুলবাড়ী দোকান ব্যবসায়ী সমিতির আহ্বায়ক আব্দুল কাইয়ুম আনসারী ও সদস্য সচিব মানিক মণ্ডল এসব পণ্য পরিবহণের ঝুঁকির কথা স্বীকার করেন। তাদের ভাষ্য, দিনের বেলায় সুরক্ষিতভাবেই এসব পরিবহণ করা দরকার। প্রশাসনের সুদৃষ্টিও কামনা করেন তারা।

ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রায় চার দশক ধরে ওয়ার্ডবয় হিসেবে কাজ করছেন তৈমুর আলী। তার ভাষ্য, লোহার পণ্য পরিবহণে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হয়ে রোগী আসেন। তাদের চিকিৎসায় দিনের বড় একটা সময় যায়। টিন বা ধারালো লোহার আঘাত নিয়ে মাসে অন্তত ১৬০ থেকে ২০০ রোগী আসেন। ইউএনও আহমেদ হাছান বলেন, এসব পণ্য পরিবহণ খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। বিষয়টি নিয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে উদ্যোগ নেবেন। কিছু ক্ষেত্রে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/159689