বগুড়ার শেরপুরে লক্ষ্মীখোলা খাল খনন প্রকল্পে দুই দপ্তরের বরাদ্দ, সমন্বয়হীনতার অভাব
শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি : বগুড়ার শেরপুরে খাল খনন প্রকল্পে দুই দপ্তর থেকে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। একই প্রকল্পে দুই দপ্তর থেকে বরাদ্দ দেওয়ায় নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনা উপজেলার কুসুম্বি ইউনিয়নের লক্ষ্মীখোলা খাল খনন প্রকল্পে। একই খালের একই অংশে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) উভয় দপ্তর থেকেই পৃথক ভাবে বরাদ্দ ও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আর এতেই সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় উপজেলার কুসুম্বি ইউনিয়নে পানি উন্নয়ন বোর্ড অনুমোদিত লক্ষ্মীখোলা শাখা খাল খনন কাজ শুরু হয়েছে। কিন্তু বাদবাকি আরও দেড় কিলোমিটার খনন কাজ করা হবেনা বলে জানান ঠিকাদার। তবে তারা বলছেন ১ কিলোমিটার অনুমোদিত, সেটি খনন শেষ করা হবে।
প্রাপ্ততথ্যে জানা যায়, লক্ষ্মী খোলা শাখা খালের শূন্য থেকে আড়াই কিলোমিটার পর্যন্ত পুন:খননের জন্য গত ২৬ নভেম্বর ২৮ লাখ ৫৯ হাজার ১৩৬ টাকা বরাদ্দ দেয় শেরপুর উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয় (এলজিইডি)। তবে একই খালের কাজ শেষ না হতেই, গত ২০ জানুয়ারি পানি উন্নয়ন বোর্ড শূন্য থেকে ১ কিলোমিটার পর্যন্ত খননের জন্য ১৩ লাখ ৫ হাজার ১৯২ টাকা বরাদ্দ দেয়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, খালটির মোট দৈর্ঘ্য আড়াই কিলোমিটার, এর মধ্যে মাত্র ১ কিলোমিটার থাল খনন করলে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক হবে না। ফলে কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা নিশ্চিত হবে না এবং পুরো প্রকল্পের উদ্দেশ্যই ব্যাহত হতে পারে।
কুসুম্বি গ্রামের ওমর ফারুক, আকবর, আব্দুর রহমানসহ একাধিক কৃষক জানান, বর্ষা মৌসুমে খালটি ভরাট থাকায় জমিতে পানি জমে থাকে, আবার শুষ্ক মৌসুমে সেচের পানির সংকট দেখা দেয়। তারা বলছেন, খাল পুরোটা খনন না হলে আমাদের কোনো উপকার হবে না।
১ কিলোমিটার কাজ করলে শুধু টাকা খরচ হবে, সুফল মিলবে না। ফলে আংশিক খনন প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা। একই প্রকল্পে দুই দপ্তরের ভিন্ন ভিন্ন বরাদ্দ দেয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশ্ন, পৃথক বরাদ্দ ও কাজ শুরুর ঘটনা প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতার ঘাটতি নাকি দুই দপ্তরের বরাদ্দ নিয়ে লুটপাটের পরিকল্পনা তা খতিয়ে দেখা দরকার।
এ বিষয়ে শেরপুর উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল মজিদ বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, আমরা শূন্য থেকে সম্পূর্ণ আড়াই কিলোমিটার খালের খনন কাজের অনুমোদন অনেক আগেই পেয়েছি। সেখানে হঠাৎ করে পানি উন্নয়ন বোর্ড কীভাবে বরাদ্দ পেল, তা আমাদের জানা নেই। আমরা কাজ শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম, কিন্তু তার আগেই পাউবো তড়িঘড়ি করে কাজ শুরু করে দিয়েছে। বর্তমানে আমরা চরম এক জটিল পরিস্থিতির মধ্যে আছি।
এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বগুড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান বলেন, যেহেতু আমাদের খনন প্রায় শেষের দিকে দুই দপ্তর পরে বিষয়টি সমঝোতা করে নিয়ে অতিরিক্ত টাকা সরকারি তহবিলে ফেরত দেওয়া হবে।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/159680