দিনাজপুরের বিরলের মিলন পেঁয়াজের বীজ উৎপাদন করে সাড়া ফেলেছেন
বিরল (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: শুধু এক দুই বিঘা নয়, এবারেও প্রায় ৬ একর জমিতে বীজের জন্য পেঁয়াজের চাষ করে গোটা জেলায় তাক লাগিয়ে দিয়েছেন, তরুণ কৃষক এবং উদ্যোক্তা মিলন ইসলাম (৩৫)। কৃষক মিলন ইসলামের বাড়ি দিনাজপুরের বিরল উপজেলার ৩নং ধামইড় ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামে। নিজ উদ্যোগে গত ৪ বছর ধরে তিনি এই গ্রামেই পেঁয়াজের চাষ করে বীজ উৎপাদন করে আসছেন। তার এমন উদ্যোগ এলাকার কৃষক ও উদ্যোক্তাদের মাঝে দারুণভাবে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
পেঁয়াজের বীজ উৎপাদনে আবাদের প্রথম থেকে এখন পর্যন্ত তার ক্ষেতে প্রতিনিয়িত দেখভাল ও পরিচর্যা করে চলছেন স্থানীয় প্রায় ২০ জন নারী-পুরুষ কৃষি শ্রমিক। এই পেঁয়াজের বীজ উৎপাদনের কারণে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে তাদের।
ইতোমধ্যে দুই থেকে আড়াই ফুট লম্বা সবুজ রঙয়ের এসব পেঁয়াজের গাছের প্রতিটি মাথায় বীজের সাদা গোলাকৃতির ফুলগুলো বাতাসে দল খাচ্ছে। দূর থেকে যে কেউ দেখলে মনে হবে, যেন শিল্পীর যত্নে আঁকা হয়েছে সবুজ চাদরে সাদা রঙের লাখো লাখো ফুলের ছবি। অনেকেই এই পেঁয়াজ বীজের চাষ ও ফুলের সৌন্দর্য দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন তার এই ক্ষেতে।
তরুণ কৃষক এবং উদ্যোক্তা মিলন ইসলাম বলেন, সরকারের সহযোগিতা পেলে দেশে পেঁয়জের ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব। কারণ আমাদের দেশে পেঁয়াজের বীজ ভালো এবং পেঁয়াজের আবাদও ভালো হয়। তবে সিন্ডিকেটের কারণে উৎপাদিত পেঁয়াজ ও বীজের অনেক সময় সঠিক দাম পাওয়া যায় না। ফলে বাইরের দেশ থেকে আমাদের পেঁয়াজ ও বীজ আমদানি করতে হয়। আর এতে করে দেশের কৃষক পেঁয়াজ চাষে আগ্রহ হারান।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রুম্মান আক্তার জানান, চলতি মৌসুমে বিরল উপজেলায় ৪০ বিঘা জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে। আমরা কৃষকদের সবধরনের সহযোগিতা ও পরামর্শ দিয়ে আসছি। বিরলের মাটি ও আবহাওয়া পেঁয়াজ চাষ ও বীজ উৎপাদনের জন্য বেশ উপযোগী। তরুণ কৃষক মিলন ইসলামের মত উদ্যোক্তা আরও বেশি বেশি সৃষ্টি হলে পেঁয়াজ চাষ ও বীজ উৎপাদনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/159557