দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ, সজিনার গাছে গাছে ফুল
নবাবগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলা এলাকায় চলতি মৌসুমে ১৩ হাজার ৬২০ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের সম্ভাব্য লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে উপজেলা কৃষি বিভাগ। ইতোমধ্যে মুকুলে ভরে গেছে জেলার সব আম গাছ। এছাড়াও উপজেলাজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সজিনার গাছগুলো সাদা ফুলে ছেয়ে গেছে। বসন্তের ছোয়ায় প্রকৃতির এমন অপরূপ সাজ নজর কাড়ছে সকলের।
জানা যায়, উপজেলায় যেসব আম বাগান রয়েছে তার মধ্যে হাঁড়িভাঙ্গা, হিমসাগর, মিছরিভোগ, আম্রপালি, ল্যাংড়া, আশ্বিনা ও বারি-৪ উল্লেখযোগ্য। আমের মৌসুমে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্রেতারা এসে পাইকারি দরে এসব আম নিয়ে যান। আবার অনেক আম ব্যবসায়ী এসে বাগান মালিকদের কাছ থেকে বাগান কিনে থাকেন।
উপজেলা কৃষি দপ্তরের হিসাব মতে, চলতি মৌসুমে উপজেলা এলাকায় ৯০৮ হেক্টর জমির উপরে আম বাগান রয়েছে। এরমধ্যে ৮৪২ হেক্টর বাগান ও ৬৬ হেক্টর বসতবাড়িতে রয়েছে। প্রাকৃতিক কোন দুর্যোগ না হলে উপজেলা কৃষি বিভাগ চলতি মৌসুমে হেক্টর প্রতি ১৫ মেট্রিক টন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।
উপজেলার তর্পণঘাট মৌজার বাগানী কল্লোল জানান, ১৫ একর জমিতে তার আমের বাগান রয়েছে। গাছে ভালো মুকুল এসেছে। একই কথা জানান উপজেলার বড় মাগুরা গ্রামের আনোয়ারুল ইসলাম। উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. জাহিদুল ইসলাম ইলিয়াস জানান, রফতানিযোগ্য আম উৎপাদন প্রকল্পের আওতায় এবার উপজেলায় ৩০ জন বাগানিকে ৫০ শতক জমির জন্য বিদ্যমান আম বাগানে সার ও বালাই ব্যবস্থাপনা প্রদর্শনী দেয়া হয়েছে। যাদের মাঝে জৈব ও রাসায়নকি সারসহ বালাইনাশক বিতরণ করা হয়েছে।
এছাড়াও দিনাজপুর টেকসই উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ১০টি ও স্মলহোল্ডার এগ্রিকালচার কম্পিটিটিভনেস প্রকল্পের(এসএসিপি) আওতায় ৬টি প্রদর্শনী দেয়া হয়েছে। অপরদিকে উপজেলার রাস্তার ধারে, বসতবাড়িতে, জমির আইলে সজিনার গাছে গাছে ফুল এসেছে। এলাকায় নির্দিষ্ট কোন সজিনার বাগান না থাকলেও সজিনা পল্লী রয়েছে ১৫টি। যার জমির পরিমাণ প্রায় ১৮ হেক্টর বলে জানিয়েছে উপজেলা কৃষি বিভাগ।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/159528