যশোরে বকেয়া বেতনের দাবিতে চালডাল ডটকম কর্মীদের বিক্ষোভ
যশোরে প্রায় চার মাস ধরে বেতন না পেয়ে অনলাইন গ্রোসারি শপ ‘চালডাল ডটকমের’ ছয় শতাধিক কর্মী আন্দোলনে নেমেছেন। শহরের আইটি পার্কে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়ে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন করছেন তাঁরা। তবে প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সামনে না এসে নিজস্ব কিছু লোক ব্যবহার করে কর্মীদের ভয়ভীতি ও চাপ প্রয়োগ করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন কর্মীরা।
গতকাল রবিবার (১ মার্চ) রাত বিক্ষোভ শুরু করেন প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা। সোমবার (২ মার্চ) সকাল থেকে আরও দুই শিফটের কর্মীরা এতে যোগ দেন। দুপুরে কার্যালয়টি ঘেরাও করে রাখেন তাঁরা। এ সময় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করায় কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
এদিকে কর্তৃপক্ষের লোকদের হামলায় শাকিল হাসান (২১) নামে একজন কর্মী আহত হয়েছেন। তিনি শহরের তালবাড়িয়া শান্তির মোড় এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে। তাঁকে চিকিৎসার জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতাল-এ ভর্তি করা হয়েছে।
বিক্ষুব্ধ কর্মীরা জানান, নিয়মিত অফিস করলেও তিন মাসের বেশি সময় ধরে বেতন পাচ্ছেন না প্রতিষ্ঠানটির অন্তত ৬০০ কর্মী। অধিকাংশ কর্মী শহরে পড়াশোনার পাশাপাশি পার্ট টাইম চাকরি করেন। ফলে বেতন না পেয়ে মানবতার জীবনযাপন করতে হচ্ছে তাঁদের। এনিয়ে বিভিন্ন সময়ে বেতন চাইতে গেলে হেনস্তার শিকার হয়েছেন কর্মীরা।
চালডাল ডটকমের কর্মীদের অভিযোগ, রোববার রাত থেকে নাইট শিফটের কর্মীরা বেতন আদায়ের দাবিতে অফিসে অবস্থান নেন। কিন্তু দীর্ঘ সময়েও কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তা তাদের সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে আসেননি। সোমবার সকাল থেকে আরও দুই শিফটের কর্মীরাও আন্দোলনে যোগ দেন। এ সময় বেতন চাইতে গেলে কর্মীদের কল সেন্টারের মোবাইল ফোন নিয়ে নেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা। এমনকি কর্মীদের প্রতিষ্ঠানে চাকরি ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশনা দেন তাঁরা। এর মধ্যেই হঠাৎ সাধারণ ছুটির নোটিশ টাঙিয়ে দেয় কর্তৃপক্ষ। এতে পার্কটির প্রধান ফটক ভাঙচুর করে বিক্ষুব্ধ কর্মীরা। পরে বিষয়টি মীমাংসার জন্য পুলিশ ও পার্কের ইনভেস্টর অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
আজমীর নামে এক কর্মী বলেন, আমাদের ৮ শতাধিক কর্মীর ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত বেতন বকেয়া রয়েছে। বেতন চাইতে গেলে কয়েকজনকে মারধরও করার ঘটনাও ঘটেছে এখানে। ঈদের আগে বেতন পরিশোধের কথা বলাতেই অনেককে চাকরি থেকে বাদ দিয়ে দিয়েছে। কারও কল সেন্টারের ফোনও নিয়ে নিয়েছে।
প্রমি নামে আরেক কর্মী বলেন,‘আমরা এতদিন ধরে বেতন পাচ্ছি না; কোনো বিক্ষোভও করিনি। মানবতার জীবনযাপন করাতে এখন বাধ্য হয়ে এই কর্মসূচি করতে হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানটির কর্মী ও কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গ্রোসারি শপের পণ্য নিয়ে যশোর আইটি পার্কে ২০১৯ সালে যাত্রা শুরু করে ‘চালডাল ডটকম’ নামে অনলাইন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানটি। আইটি পার্কের ১২ ও ১৪ তলায় চালডালের বিশাল কল সেন্টারটি পরিচালিত হয়। সেখানে আট শতাধিক কর্মী প্রতিষ্ঠানটির কল সেন্টারে চাকরি করেন।
পার্কটির ইনভেস্টার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহাজালাল বলেন, কর্মীদের বিক্ষোভে শুনে আমরা এসেছি। দীর্ঘদিন বেতন বন্ধ দুঃখজনক। বিক্ষোভের বিষয়টি পার্ক কর্তৃপক্ষকে বলেছি। তারাও আশ্বাস দিয়েছেন কর্মীদের বেতন পরিশোধে চালডাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলবেন।’
চালডাল ডটকম যশোরের সহকারী পরিচালক অভিজিৎ সরকার বলেন, ‘আমি শুরু থেকে এখানে কাজ করছি। আগে বেতন নিয়ে এমন হয়নি। ব্যবসার অবস্থা খারাপ হওয়াতে এই অবস্থা। আমারও এসব কর্মীদের বেতন বকেয়া রয়েছে। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলেছি। তারা দ্রুত সমাধান করার চেষ্টা করছেন।’
বেতন বকেয়া প্রসঙ্গে চালডাল ডটকমের উপ-পরিচালক আজিজুর রহমান জিকো দাবি করেন, ‘ডিসেম্বর মাসের বেতন ইতিমধ্যে দেওয়া হয়েছে। কোম্পানির ফান্ডে সাময়িক সমস্যা রয়েছে। নতুন সরকার আসছে, খুব দ্রুত ফান্ড সমস্যার সমাধান হলেই বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হবে।’
তবে তাঁর ওই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে কর্মীরা বলেন, কর্তৃপক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে সময়ক্ষেপণ করছে। দ্রুত বকেয়া বেতন পরিশোধ, হামলার ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে আরও কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন তাঁরা।
যশোর কোতয়ালী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) কাজী বাবুল হোসেন বলেন, বিক্ষোভের খবর শুনে আমরা ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। বিষয়টি সমাধানে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/159485