বগুড়ার শাজাহানপুরে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে দিনে দুপুরে অভিনব কায়দায় ইজিবাইক ছিনতাই
শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি : ডিবি পুলিশ পরিচয়ে বগুড়ার শাজাহানপুরে দিনে দুপুরে ইজিবাইক ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার তিনদিন পেরিয়ে গেলেও খোয়া যাওয়া ইজিবাইকটি উদ্ধারে কোন অগ্রগতি নেই। গত শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার গন্ডগ্রাম মিঞাপাড়া কবরস্থান এলাকা সংলগ্ন বগুড়া-রংপুর মহাসড়কে এ ঘটনা ঘটে। ওইদিন বিকেলেই শাজাহানপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন ক্ষতিগ্রস্ত ইজিবাইক চালক।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো নিজের লাল রঙের ইজিবাইক নিয়ে যাত্রী পরিবহনের জন্য গত শুক্রবার সকালে বগুড়া শহরের বনানী এলাকায় অবস্থান করছিলেন উপজেলার গন্ডগ্রাম সারিয়াকান্দিপাড়া এলাকার মৃত নূরুল ইসলামের ছেলে বাবুল হোসেন (৫৬)। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দুইজন যাত্রী নিয়ে হোটেল নাজ গার্ডেনের উদ্দেশ্যে রওয়ানা করেন।
পথিমধ্যে গন্ডগ্রাম মিঞাপাড়া কবরস্থান এলাকায় পৌঁছামাত্র একটি হাইস গাড়ি থেকে ইজিবাইক থামানোর জন্য ইশারা দেন চারজন। ইজিবাইক থামানোর সাথে সাথে গাড়ির লোকজন গাড়ি থেকে নেমে নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দেয় এবং বলে ইজিবাইকে অবৈধ মাল আছে। একথা শোনামাত্রই ইজিবাইকের দুই যাত্রী দৌড় দেয়। কিন্তু ডিবি পুলিশ পরিচয় দেওয়া লোকজন ধাওয়া করে ইজিবাইকের দুই যাত্রীকে গাড়িতে উঠায়।
এরপর ইজিবাইক চালক বাবুল হোসেনের কাছ থেকে ইজিবাইকের চাবি ও তার ব্যবহৃত বাটন মোবাইল ফোন (০১৭৫০-৮৭২৮২৬) নিয়ে নেয় এবং তাকেও হাইস গাড়িতে উঠিয়ে ডিবি অফিসে নিয়ে যাবে বলে রওয়ানা করে। এসময় বাবুল হোসেন তার ইজিবাইকের কথা বললে ডিবি পরিচয় দেওয়া লোকজন বলে থানা পুলিশ ইজিবাইকটি থানায় নিয়ে যাবে।
কিন্তু গাড়িটি ডিবি অফিসে না গিয়ে বগুড়া সদর উপজেলাধীন এরুলিয়া বাজারে গিয়ে দাঁড়ায়। সেখানে পৌঁছে প্রতারকরা বাবুল হোসেনকে গাড়ি থেকে নেমে দিয়ে পাশের দোকান থেকে চিপ্স কিনে আনতে বলে চম্পট দেয়। প্রতারকদের চলে যেতে দেখে বাবুল হোসেন চিৎকার করে। কিন্তু আশপাশের লোকজন বিষয়টি বুঝে ওঠার আগেই গাড়িটি দুপচাঁচিয়ার দিকে চলে যায়।
এ ঘটনায় ইজিবাইক চালক বাবুল হোসেন বাদি হয়ে ঘটনার দিন বিকেলে শাজাহানপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক ময়নুল ইসলাম জানান, অপরাধীদের শনাক্ত করে গ্রেফতার ও খোয়া যাওয়া ইজিবাইক উদ্ধারে তদন্ত চলছে।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/159383