জয়পুরহাটের কালাইয়ে স্বামীর বিরুদ্ধে প্রবাসী স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ
কালাই (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি : জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার জিন্দারপুর ইউনিয়নের এলতা গ্রামে বিদেশ থেকে আনা অর্থ নিয়ে পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামী আব্দুল বাকির বিরুদ্ধে। গতকাল শনিবার দিবাগত গভীর রাতে এ ঘটনা এলতা গ্রামে নিজ বাড়িতে ঘটে। স্ত্রীকে হত্যার পর থেকে অভিযুক্ত স্বামী পলাতক রয়েছেন। রোববার সকালে খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়েছে।
নিহত খালেদা বিবি (৪৫) এলতা গ্রামের আব্দুল বাকি ওরফে সাইদুরের স্ত্রী। খালেদা একই গ্রামের আবদুল খালেকের মেয়ে। অনেক আগেই কালাই উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের আবদুল বাকীর সঙ্গে খালেদার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তিনি এলতা গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে ঘরজামাই হিসেবে বসবাস করতেন।
পুলিশ ও পরিবারের সূত্রে জানা যায়, দাম্পত্য জীবনের শুরু থেকে অর্থসহ নানা কারণে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অশান্তি লেগেই থাকত। আর্থিক বিষয় নিয়ে স্ত্রীকে চাপ সৃষ্টি করতো। স্বামী আবদুল বাকি বিভিন্ন সময় স্ত্রীর কাছে টাকা পয়সা দাবি করতেন এবং টাকা না পেলে তাকে পরকীয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত করতেন। এসব বিষয় নিয়ে ঝগড়া-বিবাদ লেগেই থাকতো।
এ সবের মধ্যে খালেদা বিবি সংসারের চাহিদা মেটাতে গত চার বছর আগে সৌদি আরবে পারিজমান। সেখান থেকে তিনি নিয়মিত টাকা পাঠাতেন স্বামীর নিকটে। গত এক বছর আগে তিনি দেশে ফিরে দেখেন তার স্বামী দ্বিতীয় বিবাহ করেছেন। এরপর থেকে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দ্বন্দ্ব আরও বেশী হয়।
গতকাল শনিবার দুপুরে খালেদা মোবাইল ফোনে এক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলছিলেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র তাদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতি পর্যন্ত গড়ায়। এ সময় স্বামী তাকে মারধর করেন এবং তার স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোন নিয়ে নেন। বিকেলে গ্রামবাসীরা হস্তক্ষেপ করে পারিবারিক বৈঠকের বসেন। পরে স্বর্ণের চেইন ও মোবাইল ফোন খালেদার কাছে ফিরিয়ে দেন।
গতকাল শনিবার গভীর রাতে সেহরি খাওয়ার জন্য সাইদুরকে কাজের লোক ডাকতে গেলে তিনি সেহরি না খেয়ে দরজা খুলে দ্রুত বাহিরে যান। এরপর পরিবারের লোকজনের সন্দেহ হলে ঘরের ভিতরে প্রবেশ করে দেখতে পান ঘরের তীরের সাথে খালেদার মরদেহ গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ঝুলে আছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
নিহত খালেদার বড় বোন আলেয়া বেগম বলেন, টাকার জন্যই মুলত আমার বোনকে হত্যা করা হয়েছে। এসব পরকীয়া-টরকীয়া কিছুই না। দ্বিতীয় বউকে পরিবারের সবাই মেনে নিতে পারছে না, তাই আমার বোনকে হত্যা করেছে তার পথ ক্লিয়ার করার জন্য।
কালাই থানার ওসি (তদন্ত) দীপেন্দ্রনাথ সিংহ জানান, এ ঘটনা প্রাথমিকভাবে হত্যাকান্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। পারিবারিক বিরোধের জেরেই এ ঘটনা ঘটেছে বলে ধারনা করা হচ্ছে। মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। তিনি আরও জানান, ঘটনার পর থেকেই স্বামী আব্দুল বাকি পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশী অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/159381