কেন আত্মহত্যা মহাপাপ? এর ভয়াবহ শাস্তি

কেন আত্মহত্যা মহাপাপ? এর ভয়াবহ শাস্তি

ইসলামে আত্মহত্যা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ও মহাপাপ। পরজীবনে আত্মহত্যাকারীর কঠিন শাস্তি হবে বলে বর্ণিত হয়েছে বিভিন্ন হাদিসে।

হাসান বসরি (রহ.) বলেন, জুনদুব (রা.) এ মসজিদে আমাদের একটি হাদিস শুনিয়েছেন, আর তা আমরা ভুলে যাইনি এবং আমরা এ আশঙ্কাও করিনা যে জুনদুব (রা.) নবীজির (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নামে মিথ্যা বলেছেন। তিনি বলেছেন, এক ব্যক্তির শরীরে জখম ছিল, সে আত্মহত্যা করল। তখন আল্লাহ্ তাআলা বললেন, আমার বান্দা তার প্রাণ নিয়ে আমার সাথে তাড়াহুড়া করেছে। আমি তার জন্য জান্নাত হারাম করে দিলাম। (সহিহ বুখারি: ১৩৬৪)

আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত রাসুল (সা.) বলেন, যে ব্যাক্তি কোন ধারাল অস্ত্র দিয়ে আত্মহত্যা করবে, সে অস্ত্র তার হাতে থাকবে, জাহান্নামের মধ্যে সে অস্ত্র দিয়ে সে তার পেটে আঘাত করতে থাকবে, এভাবে সেখানে সে চিরকাল অবস্থান করবে।

আর যে ব্যাক্তি বিষপানে আত্নহত্যা করবে, সে জাহান্নামের আগুনের মধ্যে অবস্থান করে ওই বিষ পান করতে থাকবে, এভাবে সেখানে সে চিরকাল অবস্থান করবে। আর যে ব্যাক্তি নিজেকে পাহাড় থেকে নিক্ষেপ করে আত্নহত্যা করবে, সে ব্যাক্তি সব সময় পাহাড় থেকে নিচে গড়িয়ে জাহান্নামের আগুনে পতিত হতে থাকবে, এভাবে সে ব্যাক্তি সেখানে চিরকাল অবস্থান করবে। (সহিহ মুসলিম: ১০৯)

সাবেত ইবনে যাহহাক (রা.) থেকে বর্ণিত নবীজি (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি যে অস্ত্র বা পদ্ধতি ব্যবহার করে আত্মহত্যা করবে, কেয়ামতের দিন তাকে সেই অস্ত্র বা পদ্ধতিতেই শাস্তি দেয়া হবে। (সহিহ মুসলিম: ১১০)

এই হাদিসগুলো থেকে স্পষ্টই বোঝা যায় যে, পরজীবনে আত্মহত্যাকারীর কঠিন, যন্ত্রণাদায়ক ও দীর্ঘস্থায়ী শাস্তি হতে পারে এবং ওই শাস্তি হবে সেই পদ্ধতিতেই যে পদ্ধতি সে নিজেকে হত্যার জন্য প্রয়োগ করেছিল।

তবে আত্মহত্যা মহাপাপ হলেও এটি যেহেতু কুফর নয়, আত্মহত্যাকারী ফাসেক, কাফের নয়। তাই কোনো মুমিন ব্যক্তি যদি আত্মহত্যা করে, মৃত্যুর সময়ও তার অন্তরে ইমান থাকে, তাহলে সে চিরজাহান্নামী হবে না। জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করার পর এক পর্যায়ে আল্লাহ তাআলা তাকে মুক্ত করে দেবেন।

আত্মহত্যাকারীর মাগফেরাতের জন্য দোয়া করা যাবে, তার জানাজাও পড়া যাবে। ইবরাহিম নাখঈকে (রহ.) প্রশ্ন করা হয়েছিল, আত্মহত্যাকারীর জানাজা পড়া যাবে কি না। তিনি উত্তরে বলেছিলেন, হ্যাঁ, তার জানাজা পড়াটাই সুন্নাহ অর্থাৎ নবীজি (সা.) ও তার সাহাবীদের সময় থেকে চলে আসা রীতি। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা: ১১৯৯০)

জাবের ইবনে সামুরা (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, এক ব্যক্তি ধারালো বস্তু দিয়ে আত্মহত্যা করলে তার ব্যাপারে আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছিলেন, আমি তার জানাজা পড়ব না। (আস-সুনানুল কুবরা লিন-নাসাঈ: ২১০২)

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/159349